বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে উত্থাপিত উন্নয়ন প্রস্তাবগুলোর আলোচনার পর এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) অধীনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা—মোট আটটি সরকারি ইপিজেড পরিচালিত হচ্ছে। নতুন দুটি ইপিজেড চালু হলে দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাত আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, ইপিজেড স্থাপিত হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং ঢাকা বা চট্টগ্রামে কাজের জন্য ছুটে যেতে হবে না। এছাড়া পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রমও সহজ হবে।
অন্যদিকে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসকের মতে, নতুন ইপিজেড গড়ে উঠলে কৃষিভিত্তিক শিল্পের প্রসার ঘটবে। ধান, আলু ও ভুট্টার মতো কৃষিপণ্যের প্রাচুর্য, বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং রেল যোগাযোগের সুবিধা শিল্পায়নের জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করবে।
গাজীপুরে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিজমি রক্ষার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে সামুদ্রিক সম্পদ, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
এদিকে সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে রপ্তানি নীতি হালনাগাদ, আমদানি নীতি সংস্কার এবং বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
kalprakash.com/SAS
অনলাইন ডেস্ক 




















