প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের অনুকরণে গড়ে তোলার পরিবর্তে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা সিঙ্গাপুর বা কানাডা হতে চাই না, আমরা চাই একটি বেটার বাংলাদেশ।”
শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সরকার, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ মানুষসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শহরে প্রবেশমুখে ‘বিশ্বের দীর্ঘতম স্যান্ডি সি বিচ’ লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও সেই মর্যাদা ধরে রাখতে স্থানীয়দের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, কক্সবাজারকে এমন একটি শহরে পরিণত করা সম্ভব, যেখানে যানবাহন চলাচল হবে নিয়মতান্ত্রিক, পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে সুশৃঙ্খল এবং পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
গত ১৭ বছরে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত সাড়ে চার মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, বহু কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ফলে বর্তমানে উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ কাজ জমে আছে।
দেশকে এগিয়ে নিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং সেখানে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ উপদেষ্টা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলালসহ বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করেন। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
অনলাইন ডেস্ক 




















