বাংলাদেশ ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাণিজ্যচুক্তি নয়, এটি মার্কিন প্রশাসনের হুকুমনামা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তিকে ‘বাণিজ্যচুক্তি নয়, বরং হুকুমনামা’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তার দাবি, চুক্তিটি একতরফাভাবে বাংলাদেশের ওপর নানা বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দিয়েছে এবং এতে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি: হুমকিতে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বাম ও প্রগতিশীল ১৩টি দলের সমন্বয়ে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ঘাটতি বাণিজ্যের যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশকে বেশি দামে মার্কিন পণ্য আমদানিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। তার ভাষ্য, চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বীকৃত নীতি কিংবা World Trade Organization-এর বিধিবিধানের যথাযথ প্রতিফলন নেই।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। অথচ বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করানো যেত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতসহ অনেক দেশ এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে সময় নিয়েছে বা আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের ওষুধ, ডেইরি, তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স এবং গ্যাস খাত এই চুক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আনু মুহাম্মদ। তার মতে, বেশি দামে আমদানিকৃত পণ্য বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে।

অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজুর রহমান চুক্তিটিকে ‘একপক্ষীয় ও অসম’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ চুক্তিটি করেছিল, পরে মার্কিন আদালত সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়। ফলে কয়েকদিন অপেক্ষা করলে চুক্তির প্রয়োজনীয়তাই থাকত না।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা সুবিধা দিয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ দাবি করেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকার প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার একটি নথি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান এবং বিজিএমইএর সহসভাপতি ইনামুল হক খান

kalprakash.com/SAS

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বাণিজ্যচুক্তি নয়, এটি মার্কিন প্রশাসনের হুকুমনামা
জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যচুক্তি নয়, এটি মার্কিন প্রশাসনের হুকুমনামা

প্রকাশিত: ০৯:৩০:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তিকে ‘বাণিজ্যচুক্তি নয়, বরং হুকুমনামা’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তার দাবি, চুক্তিটি একতরফাভাবে বাংলাদেশের ওপর নানা বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে দিয়েছে এবং এতে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি: হুমকিতে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বাম ও প্রগতিশীল ১৩টি দলের সমন্বয়ে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ঘাটতি বাণিজ্যের যুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশকে বেশি দামে মার্কিন পণ্য আমদানিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। তার ভাষ্য, চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বীকৃত নীতি কিংবা World Trade Organization-এর বিধিবিধানের যথাযথ প্রতিফলন নেই।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। অথচ বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করানো যেত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতসহ অনেক দেশ এ ধরনের চুক্তির বিষয়ে সময় নিয়েছে বা আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের ওষুধ, ডেইরি, তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স এবং গ্যাস খাত এই চুক্তির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আনু মুহাম্মদ। তার মতে, বেশি দামে আমদানিকৃত পণ্য বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে।

অনুষ্ঠানে মোস্তাফিজুর রহমান চুক্তিটিকে ‘একপক্ষীয় ও অসম’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ চুক্তিটি করেছিল, পরে মার্কিন আদালত সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়। ফলে কয়েকদিন অপেক্ষা করলে চুক্তির প্রয়োজনীয়তাই থাকত না।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফা সুবিধা দিয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ দাবি করেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকার প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার একটি নথি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, বিসিকের সাবেক পরিচালক আবু তাহের খান এবং বিজিএমইএর সহসভাপতি ইনামুল হক খান

kalprakash.com/SAS

বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
বাণিজ্যচুক্তি নয়, এটি মার্কিন প্রশাসনের হুকুমনামা