আবুল ফাজল আব্বাস ইবনে মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন তিনি ও আবু সুফিয়ান (রা.) ছিলেন তাঁর সঙ্গে।
মহানবী (সা.) একটি সাদা খচ্চরের ওপর আরোহিত ছিলেন। মুসলমানরা শুরুতে কিছুটা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে অনেকে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করলেও নবিজি (সা.) নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে বিচ্যুত হননি।
এ সময় তিনি আব্বাস (রা.)-কে নির্দেশ দেন বাবলাগাছের নিচে বাইয়াত গ্রহণকারীদের ডাক দিতে। আব্বাস (রা.) উচ্চকণ্ঠে ডাক দিলে সাহাবারা মুহূর্তেই সাড়া দেন। তারা এমন দ্রুততায় ফিরে আসেন, যেমন গাভি তার বাছুরের ডাক শুনে ফিরে আসে। তারা একসঙ্গে বলে ওঠে, লাব্বাইক, লাব্বাইক—অর্থাৎ আমরা উপস্থিত।
এরপর আনসারদের উদ্দেশেও ডাক দেওয়া হয়। সাহাবারা সংগঠিত হয়ে পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে আসেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে।
মহানবী (সা.) তখন যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করে বলেন, এখনই বিজয়ের সময়। তিনি একমুঠো পাথর নিক্ষেপ করেন এবং বলেন, মুহাম্মাদের রবের কসম, তারা পরাজিত হবে। এর পরপরই শত্রুপক্ষ বিশৃঙ্খল হয়ে পিছু হটতে শুরু করে।
হাদিস সূত্র: সহিহ মুসলিম (হাদিস নং ৪৬১২), মুসনাদে আহমাদ (হাদিস নং ১৭৭৬)
শিক্ষা ও বিধান
১. সংকটের সময় ধৈর্য ও দৃঢ়তা একজন মুমিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।
২. নেতা তার অনুসারীদের কখনো বিপদের সময় একা ফেলে যান না; দায়িত্বশীলতা জরুরি।
৩. বিজয় আসে আল্লাহর সাহায্যে—মানুষের শক্তি নয়, আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।
৪. কঠিন পরিস্থিতিতে ঐক্য ও নেতার প্রতি আনুগত্য সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
অনলাইন ডেস্ক 

























