বাংলাদেশ ১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

মহানবী (সা.)-এর প্রতি সাহাবাদের অকুণ্ঠ আনুগত্য

সংগৃহীত ছবি

আবুল ফাজল আব্বাস ইবনে মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন তিনি ও আবু সুফিয়ান (রা.) ছিলেন তাঁর সঙ্গে।

মহানবী (সা.) একটি সাদা খচ্চরের ওপর আরোহিত ছিলেন। মুসলমানরা শুরুতে কিছুটা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে অনেকে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করলেও নবিজি (সা.) নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে বিচ্যুত হননি।

এ সময় তিনি আব্বাস (রা.)-কে নির্দেশ দেন বাবলাগাছের নিচে বাইয়াত গ্রহণকারীদের ডাক দিতে। আব্বাস (রা.) উচ্চকণ্ঠে ডাক দিলে সাহাবারা মুহূর্তেই সাড়া দেন। তারা এমন দ্রুততায় ফিরে আসেন, যেমন গাভি তার বাছুরের ডাক শুনে ফিরে আসে। তারা একসঙ্গে বলে ওঠে, লাব্বাইক, লাব্বাইক—অর্থাৎ আমরা উপস্থিত।

এরপর আনসারদের উদ্দেশেও ডাক দেওয়া হয়। সাহাবারা সংগঠিত হয়ে পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে আসেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

মহানবী (সা.) তখন যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করে বলেন, এখনই বিজয়ের সময়। তিনি একমুঠো পাথর নিক্ষেপ করেন এবং বলেন, মুহাম্মাদের রবের কসম, তারা পরাজিত হবে। এর পরপরই শত্রুপক্ষ বিশৃঙ্খল হয়ে পিছু হটতে শুরু করে।

হাদিস সূত্র: সহিহ মুসলিম (হাদিস নং ৪৬১২), মুসনাদে আহমাদ (হাদিস নং ১৭৭৬)


শিক্ষা ও বিধান

১. সংকটের সময় ধৈর্য ও দৃঢ়তা একজন মুমিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।
২. নেতা তার অনুসারীদের কখনো বিপদের সময় একা ফেলে যান না; দায়িত্বশীলতা জরুরি।
৩. বিজয় আসে আল্লাহর সাহায্যে—মানুষের শক্তি নয়, আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।
৪. কঠিন পরিস্থিতিতে ঐক্য ও নেতার প্রতি আনুগত্য সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

মহানবী (সা.)-এর প্রতি সাহাবাদের অকুণ্ঠ আনুগত্য

প্রকাশিত: ০৬:১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

আবুল ফাজল আব্বাস ইবনে মুত্তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে হুনাইন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন তিনি ও আবু সুফিয়ান (রা.) ছিলেন তাঁর সঙ্গে।

মহানবী (সা.) একটি সাদা খচ্চরের ওপর আরোহিত ছিলেন। মুসলমানরা শুরুতে কিছুটা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে অনেকে যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করলেও নবিজি (সা.) নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে বিচ্যুত হননি।

এ সময় তিনি আব্বাস (রা.)-কে নির্দেশ দেন বাবলাগাছের নিচে বাইয়াত গ্রহণকারীদের ডাক দিতে। আব্বাস (রা.) উচ্চকণ্ঠে ডাক দিলে সাহাবারা মুহূর্তেই সাড়া দেন। তারা এমন দ্রুততায় ফিরে আসেন, যেমন গাভি তার বাছুরের ডাক শুনে ফিরে আসে। তারা একসঙ্গে বলে ওঠে, লাব্বাইক, লাব্বাইক—অর্থাৎ আমরা উপস্থিত।

এরপর আনসারদের উদ্দেশেও ডাক দেওয়া হয়। সাহাবারা সংগঠিত হয়ে পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে আসেন এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে।

মহানবী (সা.) তখন যুদ্ধক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ করে বলেন, এখনই বিজয়ের সময়। তিনি একমুঠো পাথর নিক্ষেপ করেন এবং বলেন, মুহাম্মাদের রবের কসম, তারা পরাজিত হবে। এর পরপরই শত্রুপক্ষ বিশৃঙ্খল হয়ে পিছু হটতে শুরু করে।

হাদিস সূত্র: সহিহ মুসলিম (হাদিস নং ৪৬১২), মুসনাদে আহমাদ (হাদিস নং ১৭৭৬)


শিক্ষা ও বিধান

১. সংকটের সময় ধৈর্য ও দৃঢ়তা একজন মুমিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।
২. নেতা তার অনুসারীদের কখনো বিপদের সময় একা ফেলে যান না; দায়িত্বশীলতা জরুরি।
৩. বিজয় আসে আল্লাহর সাহায্যে—মানুষের শক্তি নয়, আল্লাহর ইচ্ছাই চূড়ান্ত।
৪. কঠিন পরিস্থিতিতে ঐক্য ও নেতার প্রতি আনুগত্য সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

kalprakash.com/SS