গাজাবাসীর জন্য মানবিক ত্রাণ বহনকারী একটি আন্তর্জাতিক নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ৩৯টি জাহাজ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে আটকে দিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। তবে বহরের কিছু জাহাজ বাধা উপেক্ষা করে গাজার উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী-এর নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত এই বহরকে ঘিরে ফেলে অভিযান চালায় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। বহরটির আয়োজকরা এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে মোট ৫৪টি জাহাজের মধ্যে ৩৯টি জাহাজ ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্যমতে, ৩৯টি দেশের ৪২৬ জন অধিকারকর্মী নিয়ে এই বহর গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ তুরস্কের একটি বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বহরটি গাজা থেকে প্রায় ২৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালায়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বহরকে “উস্কানি” হিসেবে অভিহিত করে জানায়, গাজার ওপর নৌ অবরোধ বহাল রয়েছে এবং তা লঙ্ঘন বরদাস্ত করা হবে না।
এ ঘটনায় তুরস্ক তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ঘটনাটিকে “জলদস্যুতা” বলে আখ্যা দেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বহরের একটি জাহাজে থাকা অধিকারকর্মীরা জানান, তারা বাধা সত্ত্বেও গাজাগামী মিশন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং আটক হওয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
আয়োজকরা দাবি করেছেন, ইতিপূর্বেও একই ধরনের ত্রাণ বহর আটক হয়েছে এবং তাদের সদস্যদের গ্রেপ্তার বা ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের দাবি, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে কোনো বাধা নেই এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বর্তমান সহায়তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
উল্লেখ্য, গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবরোধের কারণে মানবিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করে আসছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 




















