ইসলাম মানুষের অনুভূতি, রুচি ও আবেগকে অস্বীকার করে না। বরং আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করে এমন সুন্দর কথা, হামদ-নাত বা নৈতিক উপদেশমূলক কবিতা ইসলামের দৃষ্টিতে উৎসাহিতও হতে পারে—যদি তা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে।
এই কারণে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ), রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাত এবং নৈতিক শিক্ষা ও উপদেশভিত্তিক কাওয়ালি যদি বাদ্যযন্ত্র, অশ্লীলতা বা শরিয়তবিরোধী কোনো বিষয় ছাড়া পরিবেশিত হয়, তবে অনেক আলেমের মতে তা বৈধ হতে পারে। তবে বর্তমানে প্রচলিত অনেক কাওয়ালি অনুষ্ঠানে মিউজিক, বাদ্যযন্ত্র, বেপর্দা, শিরকি বা অতিরঞ্জিত বক্তব্যসহ বিভিন্ন অনুচিত বিষয় যুক্ত থাকে—যা ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, কিছু মানুষ অজ্ঞতাবশত অনর্থক কথাবার্তা গ্রহণ করে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে—তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি (সুরা লুকমান, আয়াত ৬)। আবার বলা হয়েছে, রহমানের বান্দারা অনর্থক কাজ ও কথাবার্তার পাশ দিয়ে গেলে সম্মানের সঙ্গে তা এড়িয়ে চলে (সুরা ফুরকান, আয়াত ৭২)।
অন্যদিকে ইসলাম কবিতা ও কণ্ঠভিত্তিক উপস্থাপনাকে একেবারে নিষিদ্ধ করেনি। হাদিসে এসেছে, কিছু কবিতা প্রজ্ঞার মতো (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৫০১১)। সাহাবি হাসান ইবনে সাবিত (রা.) ইসলামের পক্ষে কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে উৎসাহ দিতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস ৪৫৩)।
তবে একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, এমন কবিতা বা বিনোদন যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা নিন্দনীয়। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, অতিরিক্ত কবিতা বা বিনোদনে ডুবে যাওয়া অপছন্দনীয় (হাদিস ২২৯৫)।
ফকিহদের মতে, রাসুল (সা.)-এর প্রশংসা বা হামদ-নাতের কিছু বৈধতা থাকলেও তা থেকে সাধারণ গানবাজনার বৈধতা প্রমাণ করা যায় না (রাদ্দুল মুহতার)।
সারসংক্ষেপে বলা যায়—কাওয়ালি তখনই ইসলামী দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যখন এতে বাদ্যযন্ত্র, অশ্লীলতা, শিরকি বা কুফরি বক্তব্য, বেপর্দা পরিবেশ কিংবা গুনাহের কোনো উপাদান না থাকে এবং তা আল্লাহ ও দ্বিনের স্মরণে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যথায় তা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনলাইন ডেস্ক 

























