মানুষের জীবনে সবচেয়ে মহান ও নিঃস্বার্থ সম্পর্ক হলো মা-বাবার সম্পর্ক। পৃথিবীতে আগমনের পর থেকে সন্তানের প্রতিটি ধাপে মা-বাবাই ছায়ার মতো পাশে থাকেন। সন্তানের সুখের জন্য তারা নিজেদের আরাম-আয়েশ, ঘুম ও স্বপ্ন পর্যন্ত ত্যাগ করেন। তাই ইসলাম মা-বাবার মর্যাদাকে অত্যন্ত উচ্চ আসনে রেখেছে এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের পরপরই মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।
আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেক মানুষ দুনিয়া, সম্পদ ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে মা-বাবার অধিকার ভুলে যাচ্ছে। অথচ তাদের সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত এবং তাদের দোয়া সন্তানের জীবনের অন্যতম বড় সম্পদ। একজন আদর্শ মুমিন কখনোই মা-বাবার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতে পারে না; বরং সম্মান, ভালোবাসা ও সেবার মাধ্যমে তাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করে।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আপনার রব আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে… তাঁদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ২৩)। এই আয়াতে মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণকে আল্লাহর ইবাদতের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি… কাজেই আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও’ (সুরা লুকমান, আয়াত ১৪)। এই নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, সময়মতো নামাজ আদায় করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ। এরপর তিনি বলেন, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা (সহিহ মুসলিম)। এতে বোঝা যায়, ইবাদতের পরই মা-বাবার অধিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামে এমনকি মা-বাবা অমুসলিম হলেও তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে বলা হয়েছে। তবে তারা যদি আল্লাহর সঙ্গে শিরক বা কুফরের নির্দেশ দেন, সে ক্ষেত্রে তাদের কথা মানা যাবে না, কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার বজায় রাখতে হবে।
সব মিলিয়ে মা-বাবা মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। জীবদ্দশায় তাদের সেবা করা, সম্মান করা এবং মৃত্যুর পর তাদের জন্য দোয়া করা সন্তানের দায়িত্ব। যে পরিবারে মা-বাবাকে সম্মান করা হয়, সেখানে রহমত ও বরকত নেমে আসে। আর মা-বাবার অবাধ্যতা মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জীবনে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অনলাইন ডেস্ক 

























