বাংলাদেশ ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন Logo কুবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম Logo আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি, চীনের জাহাজগুলোকে সীমিত অনুমতি দিল ইরান Logo ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ঐকমত্য, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত Logo ঈদযাত্রায় ঝুঁকি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএর ১৬ দফা নির্দেশনা Logo ঈদের ছুটি পাবেন না যারা, কোন কোন পেশা থাকছে আওতার বাইরে Logo শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক জব্দ Logo বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো Logo ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

হজের প্রতিবিধান ও কাফফারা

হজ ও ওমরাহ ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই ইবাদতের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। তবে দীর্ঘ সফর ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে যেতে পারে। ইসলামী শরিয়তে এসব ত্রুটি সংশোধনের জন্য ‘দম’, ‘সদকা’ বা ‘বাদানা’র মতো কাফফারার বিধান রাখা হয়েছে। তাই হজ ও ওমরাহ আদায়কারীদের জন্য এসব বিধান জানা অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণত হজ ও ওমরাহয় তিন ধরনের ভুল হয়ে থাকে— ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ করা, ফরজ বা ওয়াজিব আদায়ে ত্রুটি এবং হারাম শরিফের মর্যাদাবিরোধী কাজ। ভুলের ধরন অনুযায়ী জরিমানাও ভিন্ন হয়ে থাকে।

ইহরাম অবস্থায় কিছু বিষয় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পুরুষদের জন্য সেলাই করা পোশাক পরা, মাথা বা মুখ ঢেকে রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার, চুল-নখ কাটা কিংবা প্রসাধনী ব্যবহার করা ইহরামের বিধান পরিপন্থী। কেউ যদি ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় সেলাই করা কাপড় পরে থাকেন, তাহলে তার ওপর একটি ছাগল বা দুম্বা কোরবানি অর্থাৎ ‘দম’ ওয়াজিব হবে। কম সময় হলে সদকা দিলেই যথেষ্ট। একই বিধান মাথা বা মুখ ঢাকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

সুগন্ধি ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হয়। শরীর বা কাপড়ে অতিরিক্ত আতর বা সুগন্ধি লাগালে দম দিতে হয়। অল্প পরিমাণ হলে সদকা যথেষ্ট। এমনকি সুগন্ধিযুক্ত সাবান, শ্যাম্পু বা ভেজা টিস্যু ব্যবহার করলেও সদকা ওয়াজিব হতে পারে।

ইহরাম অবস্থায় চুল বা নখ কাটাও নিষিদ্ধ। চারটির বেশি চুল উঠালে সদকা দিতে হয়। এক হাতের সব নখ কেটে ফেললে দম ওয়াজিব হয়, আর কম কাটলে প্রতিটি নখের জন্য আলাদা সদকা দিতে হয়।

হজ ও ওমরাহর ফরজ ও ওয়াজিব আদায়ে ত্রুটি হলেও কাফফারা দিতে হয়। যেমন— অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করলে দম বা বাদানা ওয়াজিব হতে পারে। তাওয়াফে জিয়ারত অপবিত্র অবস্থায় সম্পন্ন করলে একটি গরু বা উট কোরবানি দিতে হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করলে জরিমানা মওকুফ হয়ে যায়।

কঙ্কর নিক্ষেপে অবহেলা করলেও জরিমানা আসে। নিজে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও অন্যকে দিয়ে কঙ্কর মারানো বা অধিকাংশ কঙ্কর বাদ দিলে দম দিতে হয়। কয়েকটি কঙ্কর বাদ পড়লে প্রতিটির জন্য সদকা দিতে হয়।

হজের নির্ধারিত ক্রম ভঙ্গ করলেও জরিমানা হতে পারে। যেমন— কঙ্কর নিক্ষেপের আগে মাথা মুণ্ডন করলে দম ওয়াজিব হয়। একইভাবে কোরবানির আগে চুল কাটলেও জরিমানা প্রযোজ্য।

সবচেয়ে গুরুতর ত্রুটির মধ্যে রয়েছে স্ত্রী সহবাস সংক্রান্ত বিধান। উকুফে আরাফার পর কিন্তু ইহরাম শেষ হওয়ার আগে সহবাস করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর একটি করে গরু বা উট কোরবানি ওয়াজিব হবে। আর উকুফে আরাফার আগেই এমন হলে হজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং পরের বছর আবার হজ আদায় করতে হবে।

জরিমানার ধরন মূলত তিনটি— দম, বাদানা ও সদকা। দমের ক্ষেত্রে হারামের ভেতরে একটি ছাগল বা দুম্বা জবাই করতে হয়। বাদানা হলো একটি গরু বা উট কোরবানি করা। আর সদকা হিসেবে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ অর্থ বা খাদ্যসামগ্রী গরিবদের দিতে হয়।

মনে রাখতে হবে, দম ও বাদানার পশু অবশ্যই হারাম এলাকার ভেতরে জবাই করতে হবে এবং এর গোশত সেখানকার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তবে সদকা নিজ দেশেও দেওয়া যায়।

অসুস্থতা বা অনিবার্য ওজরের কারণে কেউ ইহরামের কোনো নিষিদ্ধ কাজ করলে শরিয়তে কিছুটা ছাড় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দমের পরিবর্তে তিনটি রোজা রাখা বা ছয়জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করলে এই বিকল্প প্রযোজ্য নয়।

আলেমরা বলেন, ভুল ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত— জরিমানা উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য গুনাহ হবে না। একই ধরনের ভুল বারবার হলেও দণ্ড আদায়ের আগে পর্যন্ত একটি জরিমানাই যথেষ্ট। তবে ভিন্ন ভিন্ন ভুলের জন্য আলাদা জরিমানা দিতে হবে।

তাই হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের উচিত প্রতিটি আমল জেনে-বুঝে আদায় করা এবং কোনো ভুল হলে তা গোপন না করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া। আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে শুদ্ধভাবে হজ ও ওমরাহ আদায়ের তাওফিক দান করেন এবং সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন।

kalprakash.com/SAS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান

হজের প্রতিবিধান ও কাফফারা

প্রকাশিত: ১০:৪৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

হজ ও ওমরাহ ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই ইবাদতের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। তবে দীর্ঘ সফর ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে যেতে পারে। ইসলামী শরিয়তে এসব ত্রুটি সংশোধনের জন্য ‘দম’, ‘সদকা’ বা ‘বাদানা’র মতো কাফফারার বিধান রাখা হয়েছে। তাই হজ ও ওমরাহ আদায়কারীদের জন্য এসব বিধান জানা অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণত হজ ও ওমরাহয় তিন ধরনের ভুল হয়ে থাকে— ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ করা, ফরজ বা ওয়াজিব আদায়ে ত্রুটি এবং হারাম শরিফের মর্যাদাবিরোধী কাজ। ভুলের ধরন অনুযায়ী জরিমানাও ভিন্ন হয়ে থাকে।

ইহরাম অবস্থায় কিছু বিষয় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পুরুষদের জন্য সেলাই করা পোশাক পরা, মাথা বা মুখ ঢেকে রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার, চুল-নখ কাটা কিংবা প্রসাধনী ব্যবহার করা ইহরামের বিধান পরিপন্থী। কেউ যদি ১২ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় সেলাই করা কাপড় পরে থাকেন, তাহলে তার ওপর একটি ছাগল বা দুম্বা কোরবানি অর্থাৎ ‘দম’ ওয়াজিব হবে। কম সময় হলে সদকা দিলেই যথেষ্ট। একই বিধান মাথা বা মুখ ঢাকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

সুগন্ধি ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হয়। শরীর বা কাপড়ে অতিরিক্ত আতর বা সুগন্ধি লাগালে দম দিতে হয়। অল্প পরিমাণ হলে সদকা যথেষ্ট। এমনকি সুগন্ধিযুক্ত সাবান, শ্যাম্পু বা ভেজা টিস্যু ব্যবহার করলেও সদকা ওয়াজিব হতে পারে।

ইহরাম অবস্থায় চুল বা নখ কাটাও নিষিদ্ধ। চারটির বেশি চুল উঠালে সদকা দিতে হয়। এক হাতের সব নখ কেটে ফেললে দম ওয়াজিব হয়, আর কম কাটলে প্রতিটি নখের জন্য আলাদা সদকা দিতে হয়।

হজ ও ওমরাহর ফরজ ও ওয়াজিব আদায়ে ত্রুটি হলেও কাফফারা দিতে হয়। যেমন— অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করলে দম বা বাদানা ওয়াজিব হতে পারে। তাওয়াফে জিয়ারত অপবিত্র অবস্থায় সম্পন্ন করলে একটি গরু বা উট কোরবানি দিতে হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করলে জরিমানা মওকুফ হয়ে যায়।

কঙ্কর নিক্ষেপে অবহেলা করলেও জরিমানা আসে। নিজে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও অন্যকে দিয়ে কঙ্কর মারানো বা অধিকাংশ কঙ্কর বাদ দিলে দম দিতে হয়। কয়েকটি কঙ্কর বাদ পড়লে প্রতিটির জন্য সদকা দিতে হয়।

হজের নির্ধারিত ক্রম ভঙ্গ করলেও জরিমানা হতে পারে। যেমন— কঙ্কর নিক্ষেপের আগে মাথা মুণ্ডন করলে দম ওয়াজিব হয়। একইভাবে কোরবানির আগে চুল কাটলেও জরিমানা প্রযোজ্য।

সবচেয়ে গুরুতর ত্রুটির মধ্যে রয়েছে স্ত্রী সহবাস সংক্রান্ত বিধান। উকুফে আরাফার পর কিন্তু ইহরাম শেষ হওয়ার আগে সহবাস করলে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর একটি করে গরু বা উট কোরবানি ওয়াজিব হবে। আর উকুফে আরাফার আগেই এমন হলে হজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং পরের বছর আবার হজ আদায় করতে হবে।

জরিমানার ধরন মূলত তিনটি— দম, বাদানা ও সদকা। দমের ক্ষেত্রে হারামের ভেতরে একটি ছাগল বা দুম্বা জবাই করতে হয়। বাদানা হলো একটি গরু বা উট কোরবানি করা। আর সদকা হিসেবে সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ অর্থ বা খাদ্যসামগ্রী গরিবদের দিতে হয়।

মনে রাখতে হবে, দম ও বাদানার পশু অবশ্যই হারাম এলাকার ভেতরে জবাই করতে হবে এবং এর গোশত সেখানকার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তবে সদকা নিজ দেশেও দেওয়া যায়।

অসুস্থতা বা অনিবার্য ওজরের কারণে কেউ ইহরামের কোনো নিষিদ্ধ কাজ করলে শরিয়তে কিছুটা ছাড় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দমের পরিবর্তে তিনটি রোজা রাখা বা ছয়জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করলে এই বিকল্প প্রযোজ্য নয়।

আলেমরা বলেন, ভুল ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত— জরিমানা উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য গুনাহ হবে না। একই ধরনের ভুল বারবার হলেও দণ্ড আদায়ের আগে পর্যন্ত একটি জরিমানাই যথেষ্ট। তবে ভিন্ন ভিন্ন ভুলের জন্য আলাদা জরিমানা দিতে হবে।

তাই হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের উচিত প্রতিটি আমল জেনে-বুঝে আদায় করা এবং কোনো ভুল হলে তা গোপন না করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া। আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে শুদ্ধভাবে হজ ও ওমরাহ আদায়ের তাওফিক দান করেন এবং সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন।

kalprakash.com/SAS