আমর ইবনে আউফ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) একবার আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রা.)-কে বাহরাইনে কর আদায়ের দায়িত্ব দিয়ে পাঠান। তিনি সেখান থেকে প্রচুর সম্পদ নিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন। তাঁর আগমনের খবর পেয়ে আনসার সাহাবিরা ফজরের নামাজে নবী (সা.)-এর সঙ্গে উপস্থিত হন। নামাজ শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে ফেরার পথে তাদের দেখে হাসেন এবং বলেন, তোমরা বোধহয় জেনে গেছ আবু উবাইদা সম্পদ নিয়ে এসেছে। সাহাবিরা জবাবে বলেন, জি হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ।
তখন নবী (সা.) বলেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং আনন্দিত হও। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের দরিদ্রতার ভয় করি না, বরং ভয় করি যে, তোমাদের ওপর দুনিয়ার প্রাচুর্য খুলে দেওয়া হবে, যেমন পূর্ববর্তী জাতিদের ওপর দেওয়া হয়েছিল। তখন তারা যেমন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল, তোমরাও তেমনি প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে, আর সেই প্রতিযোগিতাই তাদের ধ্বংসের কারণ হয়েছিল। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে দারিদ্র্য নয় বরং দুনিয়ার অতিরিক্ত প্রাচুর্য বড় ফিতনা হতে পারে। সম্পদের আধিক্য অনেক সময় মানুষকে অহংকার, প্রতিযোগিতা, হিংসা এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে দিতে পারে।
পূর্ববর্তী জাতিগুলোও দুনিয়াপ্রীতি ও বিলাসিতার কারণে ধ্বংস হয়েছিল। তাই মুসলমানদের জন্য সতর্কতা হলো, হালাল উপার্জন হারাম নয়, কিন্তু সেই সম্পদে সীমাহীন প্রতিযোগিতা ও লোভ বিপদজনক।
সবশেষে, এই শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দুনিয়ার সম্পদ নয়, বরং আখিরাতের প্রস্তুতিই একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























