হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পর আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত দীন প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি নিজ গোত্র কুরাইশদের মধ্যে তাওহিদ, রিসালাত ও আখিরাতের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দাওয়াতি কার্যক্রম শুরু করেন। সে সময় মক্কায় কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে হলে মানুষ সাধারণত ছাফা পাহাড়ে উঠে সবাইকে আহ্বান করত। রাসুল (সা.)-ও একই পদ্ধতিতে কুরাইশদের একত্র করে ইসলামের বার্তা দেন।
তিনি কুরাইশদের উদ্দেশে জিজ্ঞেস করেন, যদি পাহাড়ের পেছনে শত্রু বাহিনী থাকে, তারা কি বিশ্বাস করবে? সবাই তখন তার সত্যবাদিতার সাক্ষ্য দেয়। এরপর তিনি বলেন, আমি তোমাদের কঠিন আখিরাতের শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে এসেছি। তিনি একে একে কুরাইশের বিভিন্ন গোত্র ও নিকটাত্মীয়দের উদ্দেশে জাহান্নাম থেকে বাঁচার আহ্বান জানান, এমনকি নিজের পরিবার ও ফুফু ফাতিমাকেও সতর্ক করেন।
কিন্তু তার এই দাওয়াত তৎকালীন মুশরিকদের মধ্যে বিরোধিতা ও বিদ্রুপের জন্ম দেয়। তারা তাকে কবি, জাদুকর, পাগল ইত্যাদি বলে অপপ্রচার চালায় এবং কটুক্তি, গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। এমনকি রাস্তার পথে কাঁটা বিছানো, নামাজের সময় বিরক্ত করা এবং অপমান করার মতো ঘটনাও ঘটে। তবুও রাসুল (সা.) ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে দাওয়াত অব্যাহত রাখেন।
মক্কাবাসীর বিরোধিতা ক্রমশ তীব্র হলে তিনি তায়েফে দাওয়াত দিতে যান, কিন্তু সেখানেও তিনি কঠিন প্রতিরোধ ও নির্যাতনের সম্মুখীন হন। এরপর আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। এই হিজরতের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
মদিনায় ইসলাম একটি সংগঠিত সমাজব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ধীরে ধীরে এর আলো ছড়িয়ে পড়ে আরব উপদ্বীপ পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ইসলামের ন্যায়, সাম্য ও শান্তির বার্তা মানুষকে আকৃষ্ট করে, যার ফলে ক্রমে কোটি কোটি মানুষ এই ধর্ম গ্রহণ করে।
প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে ইসলাম বিশ্বজুড়ে বিস্তার লাভ করে চলেছে। আজ এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্ম হিসেবে অবস্থান করছে, যার মূল ভিত্তি সত্য, ন্যায়, ধৈর্য ও মানবকল্যাণের শিক্ষা।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























