বাংলাদেশ ০৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন Logo কুবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম Logo আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি, চীনের জাহাজগুলোকে সীমিত অনুমতি দিল ইরান Logo ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ঐকমত্য, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত Logo ঈদযাত্রায় ঝুঁকি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএর ১৬ দফা নির্দেশনা Logo ঈদের ছুটি পাবেন না যারা, কোন কোন পেশা থাকছে আওতার বাইরে Logo শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক জব্দ Logo বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো Logo ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

নিজের ‘যুদ্ধফাঁদে’ আটকা পড়েছেন ট্রাম্প, বেরোনোর পথও ক্ষীণ

সংগৃহীত ছবি

প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে এখন নিজস্ব নীতিগত ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ‘যুদ্ধফাঁদে’ আটকে পড়া অবস্থায় দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সের একাধিক সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত বেড়ে ভোক্তা পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ইতোমধ্যে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে জনঅসন্তোষের গুরুত্বপূর্ণ সীমা হিসেবে বিবেচিত।

এ পরিস্থিতিতে ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে হোয়াইট হাউস, যাতে প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৮ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন জটিল বলে জানা গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ভোক্তা আস্থা রেকর্ড নিম্নে নেমে এসেছে। রয়টার্স–ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি আমেরিকান পরিবার জ্বালানির উচ্চমূল্যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। রিপাবলিকান দলের ভেতরেই আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দলের একাংশ আশঙ্কা করছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি নীতি ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় মজুদ থেকে তেল ছাড় এবং শিপিং বিধিনিষেধ শিথিল করার মতো সিদ্ধান্তও রয়েছে।

তবে ট্রাম্প নিজেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং তা রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান

নিজের ‘যুদ্ধফাঁদে’ আটকা পড়েছেন ট্রাম্প, বেরোনোর পথও ক্ষীণ

প্রকাশিত: ০৬:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

প্রায় ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে এখন নিজস্ব নীতিগত ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে ‘যুদ্ধফাঁদে’ আটকে পড়া অবস্থায় দেখছেন বিশ্লেষকরা।

রয়টার্সের একাধিক সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত বেড়ে ভোক্তা পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ইতোমধ্যে ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে জনঅসন্তোষের গুরুত্বপূর্ণ সীমা হিসেবে বিবেচিত।

এ পরিস্থিতিতে ফেডারেল গ্যাস কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে হোয়াইট হাউস, যাতে প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৮ সেন্ট পর্যন্ত দাম কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন জটিল বলে জানা গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ভোক্তা আস্থা রেকর্ড নিম্নে নেমে এসেছে। রয়টার্স–ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি আমেরিকান পরিবার জ্বালানির উচ্চমূল্যে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। রিপাবলিকান দলের ভেতরেই আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দলের একাংশ আশঙ্কা করছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি নীতি ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় মজুদ থেকে তেল ছাড় এবং শিপিং বিধিনিষেধ শিথিল করার মতো সিদ্ধান্তও রয়েছে।

তবে ট্রাম্প নিজেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে ‘ছোট মূল্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং তা রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

kalprakash.com/SS