বাংলাদেশ ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহে ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীতে নিরাপদ পানির বাড়তি চাহিদা মোকাবিলা এবং বিদ্যমান সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।

সরকার বলছে, রাজধানীতে নির্মাণাধীন বড় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার চালু না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্প অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে পানি উৎপাদন ও সরবরাহ সচল রাখা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার নিয়ে সমীক্ষা চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসাকে।

প্রকল্পের আওতায় দৈনিক অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্কাডা প্রযুক্তির মাধ্যমে পাম্প পরিচালনা ও পানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হবে।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ মিলিয়ন লিটার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে, যা প্রায় ২ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ পানি আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ৩৪ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২৯ সালের মধ্যে ঢাকায় পানির চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৮ মিলিয়ন লিটারে পৌঁছতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। এর অংশ হিসেবে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার (ফেজ-১) ও সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) নির্মাণাধীন রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, ৪৫০টি পাম্প মোটর সেট ও ভিএফডি স্থাপন, ১২৪টি স্কাডা সিস্টেম সংযোজন এবং ৪৪টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬০টি গভীর নলকূপ সংস্কার ও ২৮০টি পুনরায় সচল করা হবে।

পানি সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়নে ২৫০টি পাম্প হাউস, ৪৮০টি পাম্প ডেলিভারি লাইন, ২৮ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং ৪০ হাজার মিটার কলাম পাইপ স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনা সুরক্ষায় প্রায় ৭ হাজার ১৫০ মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় পানি শোধনাগারগুলো চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঢাকায় জরুরি পানি সরবরাহে ৯২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত: ০৫:১৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রাজধানীতে নিরাপদ পানির বাড়তি চাহিদা মোকাবিলা এবং বিদ্যমান সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে ৯২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ‘ইমার্জেন্সি ওয়াটার সাপ্লাই ইন ঢাকা সিটি’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ওয়াসা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে।

সরকার বলছে, রাজধানীতে নির্মাণাধীন বড় ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগার চালু না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্প অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে পানি উৎপাদন ও সরবরাহ সচল রাখা হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের প্রোগ্রামিং বিভাগের সদস্য (সচিব) এস এম শাকিল আখতার জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও পুনর্ব্যবহার নিয়ে সমীক্ষা চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা ওয়াসাকে।

প্রকল্পের আওতায় দৈনিক অতিরিক্ত ৫৭৬ মিলিয়ন লিটার পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্কাডা প্রযুক্তির মাধ্যমে পাম্প পরিচালনা ও পানি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করা হবে।

বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা প্রায় ২ হাজার ৯৭৭ মিলিয়ন লিটার পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে, যা প্রায় ২ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ পানি আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ৩৪ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০২৯ সালের মধ্যে ঢাকায় পানির চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৮ মিলিয়ন লিটারে পৌঁছতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। এর অংশ হিসেবে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার (ফেজ-১) ও সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) নির্মাণাধীন রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ৩৮৮টি গভীর নলকূপ প্রতিস্থাপন, ৪৫০টি পাম্প মোটর সেট ও ভিএফডি স্থাপন, ১২৪টি স্কাডা সিস্টেম সংযোজন এবং ৪৪টি আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬০টি গভীর নলকূপ সংস্কার ও ২৮০টি পুনরায় সচল করা হবে।

পানি সরবরাহ অবকাঠামো উন্নয়নে ২৫০টি পাম্প হাউস, ৪৮০টি পাম্প ডেলিভারি লাইন, ২৮ হাজার মিটার বৈদ্যুতিক ক্যাবল এবং ৪০ হাজার মিটার কলাম পাইপ স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনা সুরক্ষায় প্রায় ৭ হাজার ১৫০ মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় পানি শোধনাগারগুলো চালু না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

kalprakash.com/SS