গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘাতের পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে এসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শনিবারের এই বৈঠকে দুই নেতাই সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—পারস্পরিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন কখনোই বিবাদে রূপ না নেয়। গত দুই বছরে ভারত ও চীনের সম্পর্কের টানাপোড়েন অনেকটাই প্রশমিত হলেও সীমান্ত বিরোধসহ একাধিক ক্ষেত্রে এখনও অমীমাংসিত জটিলতা রয়েছে।
বৈঠকে শি জিনপিং পারস্পরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ব্রিকসের কার্যকর ভূমিকা আরও জোরদার করতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতির জন্য পারস্পরিক স্বার্থ, শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও জোরালোভাবে তুলে ধরেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘাতের পর এটি ছিল মোদি ও শির মধ্যকার তৃতীয় মুখোমুখি বৈঠক। এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে এবং ২০২৫ সালে চীনের তিয়ানজিনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন তারা।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত যৌথ ঘোষণাপত্রে কারও নাম উল্লেখ না করে একতরফা শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করা হয়। যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সকল বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে জোটটি। পাশাপাশি ঘোষণাপত্রে পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা, গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের দাবির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানানো হয়।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
kalprakash.com/IM