কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর তুলনায় একাদশ শ্রেণিতে অনুমোদিত আসনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন ফাঁকা থাকছে ১ লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি। ফলে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় পিছিয়ে থাকা অপেক্ষাকৃত দুর্বল কলেজগুলো তীব্র শিক্ষার্থী সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর কুমিল্লা বোর্ডের আওতাধীন ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। বিপরীতে বোর্ডের আওতাধীন ছয়টি জেলার ৪৭৩টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন রয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ২৮৫টি। অর্থাৎ উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও অন্তত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৬টি আসন শূন্য থাকবে।
কলেজ অধ্যক্ষদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে প্রান্তিক ও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কুমিল্লা ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের একটি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত থাকেন। কিন্তু ভর্তির ক্ষেত্রে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগ মিলিয়েও যদি মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২ থেকে ১৪ জনে নেমে আসে, তবে একদিকে সরকারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়, অন্যদিকে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মাসউদ জানান, চলতি বছর বোর্ডের অধীনে আটটি প্রতিষ্ঠানে কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল না। এসব প্রতিষ্ঠানে কেন শিক্ষার্থী নেই এবং সেখানে সরকারের অর্থ অপচয় হচ্ছে কি না—তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে, সেগুলোর বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানস কমিটি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত মতামত ও সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এর আলোকে শিক্ষার্থী সংকটে থাকা কলেজগুলোর ভবিষ্যৎ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা যায়।
এদিকে চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন আগ্রহ দেখা গেছে। মোট পরীক্ষার্থীর ৬২ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছিল। পুনর্নিরীক্ষণের পর অকৃতকার্য হওয়া ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী নতুন করে উত্তীর্ণ হয়েছে।
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের নিয়মাবলি সম্পর্কে অভিভাবকদের আগেই স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছিল। এবার বোর্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে পুনর্নিরীক্ষণে কোনো অবস্থাতেই নম্বর কমানো হবে না, তবে খাতায় কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করে যথাযথ নম্বর দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কাগজে-কলমে কুমিল্লা বোর্ডে পর্যাপ্ত আসন থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ভালো মানের কলেজগুলোতে তীব্র প্রতিযোগিতা হলেও প্রান্তিক ও অখ্যাত কলেজগুলোতে আসন পূরণ হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে এবারের ভর্তি কার্যক্রম অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
kalprakash.com/IM