পঞ্চগড়ে কিডনি রোগীর অনুদানের চেকের অর্থ ১০ দিনেও ছাড় না হওয়ার কারণ জানতে গিয়ে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ, লাঞ্ছিত এবং তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) হাড়িভাষা ইউনিয়ন শাখায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। এ ঘটনার পর জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, পঞ্চগড়ের সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের ম্যানেজার আরিফুর রহমান আরিফের মাধ্যমে হাজেরা খাতুন নামে এক কিডনি রোগীর অনুদানের একটি চেক ১০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় জমা দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অর্থ ছাড় না হওয়ায় তিনি বিষয়টি জানতে ব্যাংকে যান।
তিনি বলেন, “শাখা ব্যবস্থাপক জ্যোতির্ময় রায়ের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে তাঁর ভিডিও বক্তব্য ধারণ করছিলাম। এ সময় ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম এসে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে বলেন। আমি ভিডিও বন্ধ না করায় তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ব্যাংকের কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়ে মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর সাধারণ গ্রাহকদের বাইরে বের করে দিয়ে আমাকে প্রায় এক ঘণ্টা ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এদিকে, সাংবাদিককে ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম তাৎক্ষণিকভাবে দুই ইউপি সদস্য জুলহাস ও গোবিন্দ্র চন্দ্র এবং গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তারা ব্যাংকে গিয়ে হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সাংবাদিক সাজ্জাদ ব্যাংক থেকে বেরিয়ে আসেন।
হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর-ই-আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুপুরে ব্যাংকে গোলমালের খবর পেয়ে আমি ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ পাঠাই। একজন সাংবাদিককে ব্যাংকের ভেতরে আটকে রেখে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি জেনেছি।“
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাষা শাখার ব্যবস্থাপক জ্যোতির্ময় রায়ের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, পঞ্চগড় অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শেখ মুক্তারুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। বুধবার সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার বিষয় নয়; এটি তথ্য অধিকার খর্ব করা এবং একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংবাদকর্মীকে অবরুদ্ধ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি 

























