বাংলাদেশ ০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট ৭৫.৩ শতাংশ মানুষ

দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রাম। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্কদের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং ৭ দশমিক ২ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।

ডেল্টাগ্রামের তথ্যানুযায়ী, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশে এই জরিপ পরিচালিত হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাস পর ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জরিপে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রাম ও শহরের মধ্যে সমর্থনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যে সমর্থনের হার কাছাকাছি থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সী উত্তরদাতাদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কার উদ্যোগও রয়েছে।

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটির পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জরিপের ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেওয়া হয়। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মোবাইল ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকদের মতে, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, বিভাগভিত্তিক নমুনার আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় রংপুর ও ঢাকার মতো অঞ্চলের মধ্যে দেখা যাওয়া ব্যবধান পুরোপুরি প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নাও হতে পারে।

ডেল্টাগ্রাম জানায়, জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের আট বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। মোট ৩ হাজার উত্তরদাতার অংশগ্রহণে পরিচালিত এই জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষকদের হিসাবে, নমুনা নির্বাচন ও পরিসংখ্যানগত সমন্বয় বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফলের ক্ষেত্রে এই ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রাম

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট ৭৫.৩ শতাংশ মানুষ

প্রকাশিত: ১২:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব পালনের ধরনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেল্টাগ্রাম। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী প্রাপ্তবয়স্কদের ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অসন্তোষ জানিয়েছেন এবং ৭ দশমিক ২ শতাংশ কোনো মতামত দেননি।

ডেল্টাগ্রামের তথ্যানুযায়ী, গত ১২ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত সারা দেশে এই জরিপ পরিচালিত হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাস পর ৩ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি সম্পন্ন করা হয়েছে।

জরিপে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সবচেয়ে বেশি সমর্থন রংপুর বিভাগে, যেখানে অনুমোদনের হার ৮৩ দশমিক ১ শতাংশ। সবচেয়ে কম সমর্থন পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এ হার ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ।

গ্রাম ও শহরের মধ্যে সমর্থনের ক্ষেত্রেও পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামীণ এলাকার ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। শহরাঞ্চলে এ হার ৭০ দশমিক ১ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে প্রায় সব বয়সী মানুষের মধ্যে সমর্থনের হার কাছাকাছি থাকলেও ৬০ বছরের বেশি বয়সী উত্তরদাতাদের মধ্যে এটি তুলনামূলক কম, ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের মাধ্যমে গঠিত সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমা নির্ধারণ এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠার মতো সংস্কার উদ্যোগও রয়েছে।

ডেল্টাগ্রাম জানিয়েছে, জরিপটির পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। জরিপকারীদের প্রশ্নপত্র পরিচালনা ও নমুনা নির্বাচন বিষয়ে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়া, অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি এবং যোগাযোগ ব্যর্থতার তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জরিপের ৭০ শতাংশ সাক্ষাৎকার সরাসরি এবং ৩০ শতাংশ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নেওয়া হয়। সরাসরি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং মোবাইল ফোনে নেওয়া সাক্ষাৎকারে ছিল ৭৪ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষকদের মতে, এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়।

তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, বিভাগভিত্তিক নমুনার আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় রংপুর ও ঢাকার মতো অঞ্চলের মধ্যে দেখা যাওয়া ব্যবধান পুরোপুরি প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নাও হতে পারে।

ডেল্টাগ্রাম জানায়, জরিপে দুই ধাপের স্তরভিত্তিক সম্ভাব্যতা নমুনা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের আট বিভাগের ১৫০টি প্রাথমিক নমুনা এলাকা থেকে প্রতিটিতে ২০টি করে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। মোট ৩ হাজার উত্তরদাতার অংশগ্রহণে পরিচালিত এই জরিপের সাড়া দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষকদের হিসাবে, নমুনা নির্বাচন ও পরিসংখ্যানগত সমন্বয় বিবেচনায় জাতীয় পর্যায়ে জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৯৫ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতায় প্রায় ±২ দশমিক ১ থেকে ±২ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিভাগভিত্তিক ফলাফলের ক্ষেত্রে এই ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রাম