বাংলাদেশ ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo হিজবুল্লাহর হামলায় আরও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে Logo রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা তদন্ত মাইলফলক, আসামি গ্রেপ্তার দ্রুত সম্পন্ন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo এক কারণে বড় হচ্ছে বাজেট, বড় সুখবর পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা Logo সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের Logo লেবাননে ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরল Logo নতুন বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা Logo রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে বলে আশা আইনমন্ত্রীর Logo স্বপ্নার পরামর্শেই পালাতে সক্ষম হন সোহেল: আদালত Logo কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা Logo প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে পিটুনি দিয়ে থানায় সোপর্দ

নিম্নমানের ইট-বালু দিয়ে চান্দহরের এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চকপালপাড়া থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এইচবিবি সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ইট বসে যাওয়া এবং দেবে যাওয়ার ঘটনা দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা। কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজ। প্রায় এক মাস আগে কাজ শুরু হলেও এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশে ত্রুটির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি স্থানে ইটের সলিং অসমান হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ইটের নিচের বালু সরে গিয়ে ফাঁপা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গাইডওয়ালের ঢালাইয়ে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাতে আঘাত করলেই কিছু অংশের ইট সরে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিমাণ বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার না করেই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণাধীন অবস্থাতেই সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামল উদ্দিন বলেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি সড়কের এমন অবস্থা হয়, তাহলে কয়েক মাস পর কী হবে? সরকারি অর্থ ব্যয় করে নিম্নমানের কাজ করলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরেক বাসিন্দা মো. আসিফ বলেন, ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্টের মান পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আবুল হোসেন বলেন, কিছু দুই নম্বর ইট রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করেই কাজ করা হচ্ছে। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক বেপারী মো. কামাল বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে বালু সরে গেছে। কাজ এখনো চলমান রয়েছে। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কাজ চলমান অবস্থায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠা এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তা আংশিক স্বীকার করার পরও তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটির কারিগরি মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ।

kalprakash.com/SAS

রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
নিম্নমানের ইট-বালু দিয়ে চান্দহরের এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ
জনপ্রিয় সংবাদ

হিজবুল্লাহর হামলায় আরও দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত, সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে

নিম্নমানের ইট-বালু দিয়ে চান্দহরের এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০১:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চকপালপাড়া থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এইচবিবি সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল, ইট বসে যাওয়া এবং দেবে যাওয়ার ঘটনা দেখা দেওয়ায় প্রকল্পটির মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ লাখ টাকা। কাজের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজ। প্রায় এক মাস আগে কাজ শুরু হলেও এরই মধ্যে সড়কের বিভিন্ন অংশে ত্রুটির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি স্থানে ইটের সলিং অসমান হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ইটের নিচের বালু সরে গিয়ে ফাঁপা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া গাইডওয়ালের ঢালাইয়ে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হাতে আঘাত করলেই কিছু অংশের ইট সরে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিমাণ বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার না করেই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ফলে নির্মাণাধীন অবস্থাতেই সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কামল উদ্দিন বলেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি সড়কের এমন অবস্থা হয়, তাহলে কয়েক মাস পর কী হবে? সরকারি অর্থ ব্যয় করে নিম্নমানের কাজ করলে জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আরেক বাসিন্দা মো. আসিফ বলেন, ব্যবহৃত ইট, বালু ও সিমেন্টের মান পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাভ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আবুল হোসেন বলেন, কিছু দুই নম্বর ইট রয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা ও প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুসরণ করেই কাজ করা হচ্ছে। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক বেপারী মো. কামাল বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কয়েকটি স্থানে বালু সরে গেছে। কাজ এখনো চলমান রয়েছে। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, কাজ চলমান অবস্থায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠা এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তা আংশিক স্বীকার করার পরও তদারকি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার পপি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটির কারিগরি মান, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ।

kalprakash.com/SAS

রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
নিম্নমানের ইট-বালু দিয়ে চান্দহরের এইচবিবি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ