বাংলাদেশ ১০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

মদিনার ঐতিহাসিক মসজিদে গামামাহ: মেঘের ছায়ার স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ

সংগৃহীত ছবি

মদিনা মুনাওয়ারার প্রতিটি ঐতিহাসিক মসজিদই মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অমূল্য ইতিহাসের অংশ। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ হলো ‘মসজিদে গামামাহ’, যা ইসলামের প্রাথমিক যুগের বহু ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে।

‘গামামাহ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ মেঘমালা বা মেঘের ছায়া। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। এক সময় মদিনায় দীর্ঘ অনাবৃষ্টি দেখা দিলে মানুষ পানির সংকটে পড়ে। তখন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বর্তমান মসজিদে গামামাহর স্থানে খোলা প্রান্তরে ইসতিসকার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে আল্লাহর রহমতে আকাশে মেঘ জমে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়। এই অলৌকিক ঘটনার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ স্থানের নাম রাখা হয় ‘মসজিদে গামামাহ’।

এ স্থানটি ‘মসজিদে মুসাল্লা’ নামেও পরিচিত ছিল। নবী করিম (সা.)-এর যুগে এখানে কোনো স্থায়ী মসজিদ ছিল না; এটি ছিল খোলা প্রান্তর, যেখানে তিনি বিভিন্ন সময়ে নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ ৯১ হিজরির দিকে এখানে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। উসমানি যুগে মসজিদটি বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আবদুল মাজিদের নির্মিত কাঠামোই বর্তমান রূপের ভিত্তি।

পরে সৌদি সরকারের উদ্যোগে উসমানি স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে মসজিদটির বড় ধরনের সংস্কার করা হয়। বর্তমানে এটি মদিনার আওকাফ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং মসজিদে নববির ঐতিহাসিক পরিসরের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত।

মসজিদে গামামাহর অন্যতম ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলো, এখানে মদিনায় প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নবী করিম (সা.) জীবনের শেষ দিকেও এই স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়া এখানেই তিনি আবিসিনিয়ার ন্যায়পরায়ণ শাসক নাজ্জাশির গায়েবানা জানাজার নামাজ আদায় করেছিলেন।

স্থাপত্যের দিক থেকেও মসজিদটি দৃষ্টিনন্দন। এর আয়তন প্রায় ৭৬৩.৭ বর্গমিটার। এতে একটি প্রধান গম্বুজসহ কয়েকটি ছোট গম্বুজ রয়েছে এবং ভেতরের নকশা মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে। মসজিদে নববির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আধুনিক উন্নয়নের মাঝেও মসজিদে গামামাহ তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে আজও নবুয়তের সোনালি যুগের এক জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

মদিনার ঐতিহাসিক মসজিদে গামামাহ: মেঘের ছায়ার স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ

প্রকাশিত: ০৫:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

মদিনা মুনাওয়ারার প্রতিটি ঐতিহাসিক মসজিদই মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অমূল্য ইতিহাসের অংশ। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ হলো ‘মসজিদে গামামাহ’, যা ইসলামের প্রাথমিক যুগের বহু ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে।

‘গামামাহ’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ মেঘমালা বা মেঘের ছায়া। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। এক সময় মদিনায় দীর্ঘ অনাবৃষ্টি দেখা দিলে মানুষ পানির সংকটে পড়ে। তখন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বর্তমান মসজিদে গামামাহর স্থানে খোলা প্রান্তরে ইসতিসকার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে আল্লাহর রহমতে আকাশে মেঘ জমে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হয়। এই অলৌকিক ঘটনার স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এ স্থানের নাম রাখা হয় ‘মসজিদে গামামাহ’।

এ স্থানটি ‘মসজিদে মুসাল্লা’ নামেও পরিচিত ছিল। নবী করিম (সা.)-এর যুগে এখানে কোনো স্থায়ী মসজিদ ছিল না; এটি ছিল খোলা প্রান্তর, যেখানে তিনি বিভিন্ন সময়ে নামাজ আদায় করতেন। পরবর্তীতে উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ ৯১ হিজরির দিকে এখানে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। উসমানি যুগে মসজিদটি বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আবদুল মাজিদের নির্মিত কাঠামোই বর্তমান রূপের ভিত্তি।

পরে সৌদি সরকারের উদ্যোগে উসমানি স্থাপত্যশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে মসজিদটির বড় ধরনের সংস্কার করা হয়। বর্তমানে এটি মদিনার আওকাফ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং মসজিদে নববির ঐতিহাসিক পরিসরের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত।

মসজিদে গামামাহর অন্যতম ঐতিহাসিক গুরুত্ব হলো, এখানে মদিনায় প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নবী করিম (সা.) জীবনের শেষ দিকেও এই স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করতেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়া এখানেই তিনি আবিসিনিয়ার ন্যায়পরায়ণ শাসক নাজ্জাশির গায়েবানা জানাজার নামাজ আদায় করেছিলেন।

স্থাপত্যের দিক থেকেও মসজিদটি দৃষ্টিনন্দন। এর আয়তন প্রায় ৭৬৩.৭ বর্গমিটার। এতে একটি প্রধান গম্বুজসহ কয়েকটি ছোট গম্বুজ রয়েছে এবং ভেতরের নকশা মসজিদটির ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে। মসজিদে নববির কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি সহজেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আধুনিক উন্নয়নের মাঝেও মসজিদে গামামাহ তার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে আজও নবুয়তের সোনালি যুগের এক জীবন্ত স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

kalprakash.com/SS