ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কোরবানি শুধু পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট নয়; বরং আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নারীর ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সমাজে এখনো অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে।
অনেকেই মনে করেন, পরিবারের পুরুষ সদস্য কোরবানি দিলেই নারীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো নারী যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন—তিনি বিবাহিতা বা অবিবাহিতা, চাকরিজীবী বা গৃহিণী যাই হোন না কেন—তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হতে পারে।
শরিয়তের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও স্বাধীন মুসলিম নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এ বিধান প্রযোজ্য, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে।
নিসাবের মানদণ্ড হিসেবে সাধারণভাবে ধরা হয় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ। এছাড়া নগদ অর্থ, অলংকার বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত একাধিক সম্পদ মিলেও যদি এই পরিমাণ মূল্য দাঁড়ায়, তাহলে সেটিও নিসাব হিসেবে গণ্য হবে।
অর্থাৎ কারো কাছে যদি অল্প পরিমাণ স্বর্ণ, কিছু নগদ টাকা বা অন্যান্য সঞ্চয় থাকে এবং সব মিলিয়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদ হয়, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়েছে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি আদায় না করা অনুচিত। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে যাদের অনেক সময় অলংকার বা সঞ্চিত অর্থ থাকলেও তা হিসাবের বাইরে থেকে যায়।
আলেমরা মনে করেন, কোরবানির বিধান শুধু পারিবারিক দায়িত্বের অংশ নয়; বরং এটি ব্যক্তিগত আর্থিক সক্ষমতার সাথেও সম্পর্কিত। তাই প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের উচিত নিজের সম্পদের হিসাব করে শরিয়ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা।
কোরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও তাকওয়ার প্রকাশ। তাই সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জন্য এ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























