বাংলাদেশ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

কোরবানির পশুর প্রতি দয়া করার গুরুত্ব

কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলাম মানুষকে যেমন পরস্পরের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়, তেমনি পশুপাখির প্রতিও সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় যেন তাকে অযথা কষ্ট দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি কাজে ইহসান বা উত্তম আচরণকে আবশ্যক করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন পশু জবাই করবে তখন তা সুন্দর ও কোমলভাবে করবে, ছুরি ভালোভাবে ধারালো করবে এবং পশুকে কষ্ট থেকে যথাসম্ভব রক্ষা করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৪০৯)

এ থেকেই বোঝা যায়, কোরবানির উদ্দেশ্য কখনো নিষ্ঠুরতা নয়; বরং দয়া, সংযম ও আল্লাহভীতির প্রকাশ। তাই জবাইয়ের সময় কিংবা পরবর্তী ধাপগুলোতেও মানবিকতা বজায় রাখা জরুরি।

দুঃখজনকভাবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পশু জবাই করার সঙ্গে সঙ্গেই চামড়া ছাড়ানো, পায়ের রগ কাটা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটাছেঁড়া শুরু করা হয়। অথচ তখনও পশুটি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়নি। এতে প্রাণীটি তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করে, যা ইসলামের শিক্ষা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।

ফকিহরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশু সম্পূর্ণ নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো মাকরুহ। (আল-ইখতিয়ার : ৫/১২; বাদায়িউস সানায়ি : ৫/৬০) বিখ্যাত ফকিহ আল্লামা মাওসিলি রহ.ও বলেছেন, নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো অপছন্দনীয় কাজ। অর্থাৎ পশুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগেই তার শরীরে কাটাছেঁড়া শুরু করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত।

তবে এ ধরনের কাজ করা হলেও কোরবানির গোশত হারাম হয়ে যায় না; গোশত হালালই থাকে। (আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা : ৫/২৮৭) কিন্তু এটি ইসলামের দয়া ও সৌন্দর্যের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কোরবানি আমাদের শেখায় আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও নৈতিক উৎকর্ষ। তাই কোরবানির প্রতিটি ধাপে শরিয়তসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। পশুকে অযথা কষ্ট না দেওয়া, জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় অপেক্ষা করা এবং সব কাজ ধৈর্য ও যত্নের সঙ্গে সম্পন্ন করাই প্রকৃত ইসলামী আদর্শের পরিচয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং আমাদের মধ্যে দয়া, তাকওয়া ও মানবিকতার গুণাবলি বৃদ্ধি করুন। আমিন।

kalprakash.com/SAS

জনপ্রিয় সংবাদ

কোরবানির পশুর প্রতি দয়া করার গুরুত্ব

প্রকাশিত: ০৯:১৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলাম মানুষকে যেমন পরস্পরের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়, তেমনি পশুপাখির প্রতিও সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় যেন তাকে অযথা কষ্ট দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি কাজে ইহসান বা উত্তম আচরণকে আবশ্যক করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন পশু জবাই করবে তখন তা সুন্দর ও কোমলভাবে করবে, ছুরি ভালোভাবে ধারালো করবে এবং পশুকে কষ্ট থেকে যথাসম্ভব রক্ষা করবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৪০৯)

এ থেকেই বোঝা যায়, কোরবানির উদ্দেশ্য কখনো নিষ্ঠুরতা নয়; বরং দয়া, সংযম ও আল্লাহভীতির প্রকাশ। তাই জবাইয়ের সময় কিংবা পরবর্তী ধাপগুলোতেও মানবিকতা বজায় রাখা জরুরি।

দুঃখজনকভাবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পশু জবাই করার সঙ্গে সঙ্গেই চামড়া ছাড়ানো, পায়ের রগ কাটা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটাছেঁড়া শুরু করা হয়। অথচ তখনও পশুটি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়নি। এতে প্রাণীটি তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করে, যা ইসলামের শিক্ষা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।

ফকিহরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশু সম্পূর্ণ নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া ছাড়ানো মাকরুহ। (আল-ইখতিয়ার : ৫/১২; বাদায়িউস সানায়ি : ৫/৬০) বিখ্যাত ফকিহ আল্লামা মাওসিলি রহ.ও বলেছেন, নিস্তেজ হওয়ার আগে চামড়া খসানো অপছন্দনীয় কাজ। অর্থাৎ পশুর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগেই তার শরীরে কাটাছেঁড়া শুরু করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত।

তবে এ ধরনের কাজ করা হলেও কোরবানির গোশত হারাম হয়ে যায় না; গোশত হালালই থাকে। (আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যা : ৫/২৮৭) কিন্তু এটি ইসলামের দয়া ও সৌন্দর্যের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কোরবানি আমাদের শেখায় আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও নৈতিক উৎকর্ষ। তাই কোরবানির প্রতিটি ধাপে শরিয়তসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। পশুকে অযথা কষ্ট না দেওয়া, জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় অপেক্ষা করা এবং সব কাজ ধৈর্য ও যত্নের সঙ্গে সম্পন্ন করাই প্রকৃত ইসলামী আদর্শের পরিচয়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং আমাদের মধ্যে দয়া, তাকওয়া ও মানবিকতার গুণাবলি বৃদ্ধি করুন। আমিন।

kalprakash.com/SAS