বাংলাদেশ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

দুই বছরের কম মোটাতাজা গরু দিয়ে কোরবানির হুকুম

সংগৃহীত ছবি

কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহ তাআলার প্রতি আনুগত্য, তাকওয়া ও ত্যাগের প্রতীক। এ ইবাদত সঠিকভাবে আদায় করতে হলে আবেগ বা বাহ্যিক আকৃতির চেয়ে শরিয়তের নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করা জরুরি।

বর্তমানে বাজারে অনেক গরু দেখা যায় যেগুলো আকারে বড় ও মোটাতাজা হলেও প্রকৃত বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়নি। বাহ্যিকভাবে এসব পশুকে কোরবানির উপযুক্ত মনে হলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু আকার যথেষ্ট নয়, নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়াও শর্ত।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে কোরবানির জন্য পশুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণ করতে হবে। এর কম বয়সের পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না, যদিও তা দেখতে বড় ও স্বাস্থ্যবান হয়।

এ বিষয়ে আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোরবানির পশু অবশ্যই শরিয়ত নির্ধারিত বয়সে উপনীত হতে হবে। ফিকহের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে যে গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক হওয়ার মানদণ্ড হলো দুই বছর পূর্ণ হওয়া।

তবে পশুর বয়স নির্ধারণ সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় সহজ নয়। সাধারণত দাঁত, শারীরিক গঠন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বয়স অনুমান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কথার ওপরও নির্ভর করা যায়, যদি প্রতারণার আশঙ্কা না থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গরুর আকার বা মোটাতাজা হওয়া দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ বাহ্যিকভাবে বড় হলেও পশুটি শরিয়ত নির্ধারিত বয়সে না পৌঁছালে কোরবানি আদায় হবে না।

তবে ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ছয়-সাত মাস বয়সী ভেড়া, যদি দেখতে এক বছরের মতো বড় হয়, তাহলে তা দিয়ে কোরবানি করা বৈধ হতে পারে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো ব্যতিক্রম নেই।

সুতরাং কোরবানির পশু কেনার আগে তার বয়স নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ কোরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করা।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

দুই বছরের কম মোটাতাজা গরু দিয়ে কোরবানির হুকুম

প্রকাশিত: ০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহ তাআলার প্রতি আনুগত্য, তাকওয়া ও ত্যাগের প্রতীক। এ ইবাদত সঠিকভাবে আদায় করতে হলে আবেগ বা বাহ্যিক আকৃতির চেয়ে শরিয়তের নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করা জরুরি।

বর্তমানে বাজারে অনেক গরু দেখা যায় যেগুলো আকারে বড় ও মোটাতাজা হলেও প্রকৃত বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়নি। বাহ্যিকভাবে এসব পশুকে কোরবানির উপযুক্ত মনে হলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে শুধু আকার যথেষ্ট নয়, নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়াও শর্ত।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে কোরবানির জন্য পশুর বয়স কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণ করতে হবে। এর কম বয়সের পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না, যদিও তা দেখতে বড় ও স্বাস্থ্যবান হয়।

এ বিষয়ে আলেমদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোরবানির পশু অবশ্যই শরিয়ত নির্ধারিত বয়সে উপনীত হতে হবে। ফিকহের গ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে যে গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক হওয়ার মানদণ্ড হলো দুই বছর পূর্ণ হওয়া।

তবে পশুর বয়স নির্ধারণ সাধারণ মানুষের জন্য সবসময় সহজ নয়। সাধারণত দাঁত, শারীরিক গঠন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বয়স অনুমান করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কথার ওপরও নির্ভর করা যায়, যদি প্রতারণার আশঙ্কা না থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু গরুর আকার বা মোটাতাজা হওয়া দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ বাহ্যিকভাবে বড় হলেও পশুটি শরিয়ত নির্ধারিত বয়সে না পৌঁছালে কোরবানি আদায় হবে না।

তবে ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ছয়-সাত মাস বয়সী ভেড়া, যদি দেখতে এক বছরের মতো বড় হয়, তাহলে তা দিয়ে কোরবানি করা বৈধ হতে পারে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো ব্যতিক্রম নেই।

সুতরাং কোরবানির পশু কেনার আগে তার বয়স নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ কোরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করা।

kalprakash.com/SS