বর্তমান সময়ে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ‘স্টাডি মিউজিক’, ‘ফোকাস মিউজিক’ বা ‘লো-ফাই মিউজিক’ শোনার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। অনেকে মনে করেন, এসব সুর পড়াশোনার চাপ কমিয়ে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো কাজের উপকারিতার পাশাপাশি তার শরিয়তসম্মত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামে মনোযোগ ও প্রশান্তির মূল উৎস হিসেবে আল্লাহর স্মরণ, কোরআনের তিলাওয়াত এবং জিকিরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথাবার্তা গ্রহণ করে (সুরা লুকমান, আয়াত ৬)।
অনেক মুফাসসিরের মতে, এই আয়াতে ‘অসার কথা’ বলতে গান-বাজনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, কিছু মানুষ ভবিষ্যতে ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫৯০)। এ ভিত্তিতে অনেক ফকিহ বাদ্যযন্ত্রসমৃদ্ধ সংগীতকে নাজায়েজ বলেছেন, বিশেষ করে যখন তা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে।
বর্তমানে ‘স্টাডি মিউজিক’ বা ‘ফোকাস মিউজিক’ নামে অনেক অডিও কনটেন্টে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। নাম পরিবর্তন করলেও বিষয়বস্তুর হুকুম পরিবর্তন হয় না—এটি ইসলামী ফিকহের একটি নীতিগত বিষয়।
যদি কোনো অডিওতে বাদ্যযন্ত্র বা সংগীতের উপাদান থাকে, তবে তা থেকে বিরত থাকা উত্তম বলে অনেক আলেম মত দিয়েছেন। এ বিষয়ে ফিকহের গ্রন্থসমূহেও আলোচনা পাওয়া যায় (যেমন: রাদ্দুল মুহতার, আয়নুল মাবুদ)।
অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য ইসলামে বৈধ বিকল্প রয়েছে—যেমন কোরআন তিলাওয়াত শোনা, জিকির, দোয়া, বা নীরব ও শান্ত পরিবেশে অধ্যয়ন করা। বৃষ্টি বা বাতাসের মতো প্রাকৃতিক শব্দও (যদি বাদ্যযন্ত্র না থাকে) সহায়ক হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, যে বিষয়টি সন্দেহপূর্ণ বা হারাম উপাদান যুক্ত, তা থেকে দূরে থাকা তাকওয়ার অংশ। আর প্রকৃত প্রশান্তি ও মনোযোগ আল্লাহর স্মরণেই নিহিত।
অনলাইন ডেস্ক 

























