বাংলাদেশ ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ইসলামে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

মানবজীবনের সবচেয়ে পবিত্র ও গভীর সম্পর্ক হলো মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক। সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে তার লালন-পালন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মা-বাবার ত্যাগ অপরিসীম। তাই ইসলাম মা-বাবার মর্যাদাকে অত্যন্ত উচ্চ আসনে রেখেছে এবং তাদের প্রতি সদাচরণকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের পরপরই মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন—
তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। আর মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো
(সুরা নিসা, আয়াত ৩৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—
আমার প্রতি এবং তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও
(সুরা লুকমান, আয়াত ১৪)

ইসলামে মা-বাবার প্রতি সন্তানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো—

১. নম্র ভাষায় কথা বলা
মা-বাবার সঙ্গে সবসময় ভদ্র, বিনয়ী ও নরম ভাষায় কথা বলতে হবে। কঠোর বা অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২. অনুমতি ছাড়া সফর না করা
কোথাও গেলে মা-বাবাকে জানানো এবং তাদের অনুমতি নেওয়া সন্তানের দায়িত্ব। তাদের মন খারাপ হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. রাগান্বিত হয়ে কথা না বলা
মা-বাবার সঙ্গে রাগ করে কথা বলা বা তাদের কষ্ট দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাদের দোয়া সন্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা
মা-বাবা জীবিত না থাকলেও তাদের বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা সন্তানের কর্তব্য।

৫. মৃত্যুর পর দোয়া করা
মা-বাবা মারা গেলেও তাদের জন্য দোয়া করা সন্তানের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা কোরআনে শিক্ষা দিয়েছেন—
হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করো যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছিলেন
(সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ২৪)

৬. সদকা ও দান করা
মা-বাবার নামে দান-সদকা করা তাদের জন্য উপকার বয়ে আনে এবং এর সওয়াব তাদের কাছে পৌঁছে।

৭. কবর জিয়ারত করা
মা-বাবার কবর জিয়ারত করা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাদের জন্য দোয়ার সুযোগ তৈরি করে।

৮. তাদের অসম্মান এড়ানো
এমন কোনো কাজ করা যাবে না যার কারণে মা-বাবা অপমানিত হন বা অন্যরা তাদের নিয়ে খারাপ কথা বলে।

ইসলামে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব শুধু সামাজিক নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত। তাদের সেবা, সম্মান ও দোয়ার মাধ্যমে একজন সন্তান দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মা-বাবার হক যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

ইসলামে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

প্রকাশিত: ০৬:১৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মানবজীবনের সবচেয়ে পবিত্র ও গভীর সম্পর্ক হলো মা-বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক। সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে তার লালন-পালন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মা-বাবার ত্যাগ অপরিসীম। তাই ইসলাম মা-বাবার মর্যাদাকে অত্যন্ত উচ্চ আসনে রেখেছে এবং তাদের প্রতি সদাচরণকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের পরপরই মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেন—
তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। আর মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো
(সুরা নিসা, আয়াত ৩৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন—
আমার প্রতি এবং তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও
(সুরা লুকমান, আয়াত ১৪)

ইসলামে মা-বাবার প্রতি সন্তানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো—

১. নম্র ভাষায় কথা বলা
মা-বাবার সঙ্গে সবসময় ভদ্র, বিনয়ী ও নরম ভাষায় কথা বলতে হবে। কঠোর বা অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

২. অনুমতি ছাড়া সফর না করা
কোথাও গেলে মা-বাবাকে জানানো এবং তাদের অনুমতি নেওয়া সন্তানের দায়িত্ব। তাদের মন খারাপ হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. রাগান্বিত হয়ে কথা না বলা
মা-বাবার সঙ্গে রাগ করে কথা বলা বা তাদের কষ্ট দেওয়া ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাদের দোয়া সন্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা
মা-বাবা জীবিত না থাকলেও তাদের বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা সন্তানের কর্তব্য।

৫. মৃত্যুর পর দোয়া করা
মা-বাবা মারা গেলেও তাদের জন্য দোয়া করা সন্তানের দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা কোরআনে শিক্ষা দিয়েছেন—
হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করো যেমন তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন করেছিলেন
(সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ২৪)

৬. সদকা ও দান করা
মা-বাবার নামে দান-সদকা করা তাদের জন্য উপকার বয়ে আনে এবং এর সওয়াব তাদের কাছে পৌঁছে।

৭. কবর জিয়ারত করা
মা-বাবার কবর জিয়ারত করা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তাদের জন্য দোয়ার সুযোগ তৈরি করে।

৮. তাদের অসম্মান এড়ানো
এমন কোনো কাজ করা যাবে না যার কারণে মা-বাবা অপমানিত হন বা অন্যরা তাদের নিয়ে খারাপ কথা বলে।

ইসলামে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব শুধু সামাজিক নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত। তাদের সেবা, সম্মান ও দোয়ার মাধ্যমে একজন সন্তান দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মা-বাবার হক যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

kalprakash.com/SS