মহান আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিনের ন্যায়বিচারের চিত্র তুলে ধরে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন—
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ۖ وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ۖ وَكَفَىٰ بِنَا حَاسِبِينَ
সরল অনুবাদ:
‘আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারো ওপর কোনো জুলুম করা হবে না। কারো কর্ম যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা হাজির করব। আর হিসাব গ্রহণকারী হিসেবে আমিই যথেষ্ট।’
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত : ৪৭)
আয়াতের ব্যাখ্যা সংক্ষেপে
এখানে মাওয়াজিন শব্দটি মিজান (দাঁড়িপাল্লা)-এর বহুবচন। তাফসিরবিদদের মধ্যে এর ব্যাখ্যায় কিছু ভিন্ন মত রয়েছে।
একদল আলেমের মতে, আমলের ধরন অনুযায়ী একাধিক দাঁড়িপাল্লা থাকবে। আবার অধিকাংশ তাফসিরবিদের মতে, মূলত দাঁড়িপাল্লা একটিই হবে, যার দুটি পাল্লা থাকবে—একপাশে সৎ আমল, অন্যপাশে অসৎ আমল।
বহুবচন ব্যবহারের কারণ হিসেবে বলা হয়, শুধু আমল নয়, কখনো আমলনামা, কখনো মানুষের নিজেকেও ওজন করা হবে—এই বিস্তৃত অর্থ বোঝাতেই এই ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। (তাফসিরে কুরতুবি, শারহুত তাহাভিয়্যাহ)
আমল কীভাবে ওজন করা হবে
আখিরাতে আমল ওজনের বিষয়টি মানুষের সীমিত জ্ঞানে পুরোপুরি বোঝা কঠিন হলেও আল্লাহর ক্ষমতার সামনে এটি সহজ। যেমন বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তিতে অদৃশ্য বা অশরীরী বস্তুও পরিমাপ করা সম্ভব, তেমনি আল্লাহ তাআলা তাঁর অসীম ক্ষমতায় আমলকে বাস্তবভাবে প্রকাশ করে বিচার করবেন।
সহিহ হাদিসে এসেছে, কিছু আমল কিয়ামতের দিন জীবন্ত রূপে উপস্থিত হবে। যেমন কোরআন তেলাওয়াতকারী ব্যক্তির সামনে কোরআন এক সুন্দর রূপে হাজির হবে এবং তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। (মুসনাদে আহমাদ)
এই আয়াত থেকে শিক্ষা
১. কিয়ামতের বিচার হবে সম্পূর্ণ ন্যায়ভিত্তিক, কোনো ধরনের জুলুম থাকবে না।
২. ছোট-বড় সব আমলই আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত থাকবে এবং হিসাব হবে।
৩. সামান্য ভালো কাজও অবহেলা করা যাবে না, আবার ছোট গুনাহও হালকা করে দেখা যাবে না।
৪. আল্লাহ সবকিছু জানেন—প্রকাশ্য, গোপন এবং নিয়ত পর্যন্ত।
৫. একজন মুমিনকে সব সময় নিজের আমলের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে, কারণ একদিন অবশ্যই হিসাব দিতে হবে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























