বাংলাদেশ ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

মোবাইলে রিংটোন ব্যবহারে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতা কাম্য

সংগৃহীত ছবি

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কাজকর্ম এবং তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর ব্যবহারে ইসলামী আদব ও বিধান মেনে চলা একজন মুসলমানের জন্য জরুরি।

বিশেষ করে মোবাইলের রিংটোনে গান বা বাদ্যযন্ত্রের সুর ব্যবহারের বিষয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়—এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য কি না, কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে তা শোনা হলে এর হুকুম কী।

ইসলামী দৃষ্টিতে রিংটোন

শরিয়তের অধিকাংশ আলেমের মতে, বাদ্যযন্ত্র ও সংগীতসমৃদ্ধ শব্দ শোনা হারাম। তাই মোবাইলের রিংটোন হিসেবে গান বা মিউজিক ব্যবহার করা অনুচিত এবং তা পরিহার করাই উত্তম।

তবে যদি কারও ফোনে কেবল মিউজিকযুক্ত রিংটোনই থাকে এবং বিকল্প না থাকে, তাহলে কল আসার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তা শোনা হলে এতে গুনাহ হবে না। কারণ এখানে উদ্দেশ্য গান শোনা নয়, বরং কল গ্রহণ করা।

কিন্তু সহজেই যদি মিউজিক ছাড়া রিংটোন ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে তা পরিবর্তন করা উচিত। অপ্রয়োজনে হারাম বা অপছন্দনীয় বিষয় ব্যবহার করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত।

ফিকহের আলোচনায় নির্দেশনা

ফিকহের কিতাবে উল্লেখ আছে, বাদ্যযন্ত্র বা এ ধরনের শব্দ শোনা হারাম হলেও অনিচ্ছাকৃতভাবে শোনা হলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে না। তবে তাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এমন পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার।

(রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫৬৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৫৪)

উত্তম বিকল্প

একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো শরিয়তসম্মত রিংটোন ব্যবহার করা। যেমন—

  • সাধারণ নোটিফিকেশন টোন
  • মোবাইলের ডিফল্ট সাউন্ড
  • ভাইব্রেশন মোড

বিশেষ করে মসজিদ, মজলিস বা ইবাদতের পরিবেশে মিউজিকযুক্ত রিংটোন ব্যবহার করা আরও বেশি অনুচিত।

(কারাতাশি, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩৯৫; হিদায়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৭৫)

উপসংহার

প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই বৈধ ও প্রয়োজনীয়, তবে তা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকা উচিত। অপ্রয়োজনীয়ভাবে হারাম বা সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকা একজন মুসলমানের দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং হালাল ও পবিত্র জীবন যাপনের তাওফিক দিন। আমিন।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

মোবাইলে রিংটোন ব্যবহারে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্কতা কাম্য

প্রকাশিত: ০৬:২৩:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কাজকর্ম এবং তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর ব্যবহারে ইসলামী আদব ও বিধান মেনে চলা একজন মুসলমানের জন্য জরুরি।

বিশেষ করে মোবাইলের রিংটোনে গান বা বাদ্যযন্ত্রের সুর ব্যবহারের বিষয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়—এটি শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য কি না, কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে তা শোনা হলে এর হুকুম কী।

ইসলামী দৃষ্টিতে রিংটোন

শরিয়তের অধিকাংশ আলেমের মতে, বাদ্যযন্ত্র ও সংগীতসমৃদ্ধ শব্দ শোনা হারাম। তাই মোবাইলের রিংটোন হিসেবে গান বা মিউজিক ব্যবহার করা অনুচিত এবং তা পরিহার করাই উত্তম।

তবে যদি কারও ফোনে কেবল মিউজিকযুক্ত রিংটোনই থাকে এবং বিকল্প না থাকে, তাহলে কল আসার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে তা শোনা হলে এতে গুনাহ হবে না। কারণ এখানে উদ্দেশ্য গান শোনা নয়, বরং কল গ্রহণ করা।

কিন্তু সহজেই যদি মিউজিক ছাড়া রিংটোন ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে তা পরিবর্তন করা উচিত। অপ্রয়োজনে হারাম বা অপছন্দনীয় বিষয় ব্যবহার করা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত।

ফিকহের আলোচনায় নির্দেশনা

ফিকহের কিতাবে উল্লেখ আছে, বাদ্যযন্ত্র বা এ ধরনের শব্দ শোনা হারাম হলেও অনিচ্ছাকৃতভাবে শোনা হলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে না। তবে তাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এমন পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করার।

(রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ৯, পৃষ্ঠা: ৫৬৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৫৪)

উত্তম বিকল্প

একজন সচেতন মুসলমানের জন্য উত্তম হলো শরিয়তসম্মত রিংটোন ব্যবহার করা। যেমন—

  • সাধারণ নোটিফিকেশন টোন
  • মোবাইলের ডিফল্ট সাউন্ড
  • ভাইব্রেশন মোড

বিশেষ করে মসজিদ, মজলিস বা ইবাদতের পরিবেশে মিউজিকযুক্ত রিংটোন ব্যবহার করা আরও বেশি অনুচিত।

(কারাতাশি, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৩৯৫; হিদায়া, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪৭৫)

উপসংহার

প্রযুক্তির ব্যবহার অবশ্যই বৈধ ও প্রয়োজনীয়, তবে তা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকা উচিত। অপ্রয়োজনীয়ভাবে হারাম বা সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকা একজন মুসলমানের দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং হালাল ও পবিত্র জীবন যাপনের তাওফিক দিন। আমিন।

kalprakash.com/SS