কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের একটি আদালত গুরুত্বপূর্ণ এক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—শুধু এআই বা রোবট ব্যবহার করা যাবে এই অজুহাতে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মীদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে পারবে না।
রবিবার (৩ মে) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
আদালতের মতে, প্রতিষ্ঠান চাইলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, তবে এর ভিত্তিতে পুরোনো কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে। এই রায়কে শ্রমবাজার ও কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চীন বর্তমানে একদিকে যেমন এআই প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্ব দিতে চাইছে, অন্যদিকে ধীরগতির অর্থনীতি ও তরুণদের বেকারত্বের চাপ মোকাবিলাও করছে। তাই প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান রক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ঘটনার সূত্রপাত পূর্ব চীনের হাংজু শহরের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। সেখানে এক কর্মীর কাজ এআই দিয়ে সম্পন্ন করা শুরু হলে তাকে নিচু পদে স্থানান্তর করা হয়। ওই কর্মী তা প্রত্যাখ্যান করলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন।
হাংজু আদালত রায়ে জানায়, কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করতে হলে প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের ক্ষতি বা ব্যবসায়িক সংকোচনের মতো যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে। শুধু এআই দিয়ে কাজ করানো হবে—এমন সিদ্ধান্ত ছাঁটাইয়ের বৈধ কারণ হতে পারে না।
আদালত আরও স্পষ্ট করে জানায়, প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠান একতরফাভাবে কর্মী ছাঁটাই বা বেতন হ্রাস করতে পারবে না। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা নিয়োগকর্তার আইনি দায়িত্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে চীনের অন্যান্য আদালতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি এটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—এআই মানুষের সহায়ক প্রযুক্তি হলেও এটি কর্মী ছাঁটাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না।
ধারণা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্ত গুগল, মেটা, আলিবাবা গ্রুপসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ এআই নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
kalprakash.com/SS
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক 
























