বাংলাদেশ ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বাবিল নগরীতে হারুত-মারুত ফেরেশতার অবতরণ ও জাদুর পরীক্ষা: কোরআনের শিক্ষণীয় বর্ণনা

সংগৃহীত ছবি

মানবজীবনকে আল্লাহ তাআলা ধারাবাহিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরিচালিত করেন—সত্য ও মিথ্যা, ভালো ও মন্দ, হালাল ও হারামের মধ্যে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা মানুষের জন্য নির্ধারিত। এই পরীক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষণীয় ঘটনা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারায় বর্ণিত বাবিল নগরীতে হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয়ের অবতরণের কাহিনি।

বাবিল (ব্যবিলন) ছিল প্রাচীন ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী, যা খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ সালের দিকে সভ্যতার একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ঐ অঞ্চলে তখন জাদুবিদ্যার ব্যাপক প্রচলন ছিল। বিশেষ করে ইহুদিদের একটি অংশ নবী-রাসুলদের নিষেধ উপেক্ষা করে এই ভ্রান্ত চর্চায় লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং জাদুকরদের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডকে অলৌকিক শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে।

এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা বাবিল নগরীতে হারুত ও মারুত নামের দুই ফেরেশতাকে মানব আকৃতিতে প্রেরণ করেন। তাদের দায়িত্ব ছিল মানুষকে জাদু ও নবীদের মুজিজার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝানো। তারা শিক্ষা দেওয়ার আগে সতর্ক করে বলতেন, এটি একটি পরীক্ষা, তাই কেউ যেন কুফরি বা ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত না হয়।

কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নবী সুলাইমান (আ.) কখনো জাদুর মাধ্যমে রাজত্ব পরিচালনা করেননি; বরং শয়তানরাই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে জাদু শিক্ষা দিত। (সুরা বাকারা, আয়াত ১০২) এটি ছিল নবীর প্রতি আরোপিত একটি মিথ্যা অপবাদের খণ্ডন।

হারুত ও মারুত ফেরেশতারা মানুষকে জাদুর জ্ঞান শিক্ষা দিলেও তারা বারবার সতর্ক করতেন যে, এটি একটি পরীক্ষা। তবুও কিছু মানুষ সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে জাদু শিখে মানুষের ক্ষতি করতে শুরু করে, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর মতো অনৈতিক কাজে তা ব্যবহার করে।

কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কারো ক্ষতি করতে পারে না। এ জাদু মানুষের কোনো উপকারে আসে না, বরং ক্ষতির কারণ হয় এবং আখিরাতে এর জন্য কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। (সুরা বাকারা, আয়াত ১০২)

এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, জ্ঞান ও শক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়—এর ব্যবহারই মানুষকে সফলতা বা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। শয়তান সবসময় সত্যকে বিকৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাই ঈমানদারদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।

অবশেষে এই কাহিনি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জীবন একটি পরীক্ষা। সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার পথ।

kalprakash.com/ SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

বাবিল নগরীতে হারুত-মারুত ফেরেশতার অবতরণ ও জাদুর পরীক্ষা: কোরআনের শিক্ষণীয় বর্ণনা

প্রকাশিত: ০৫:১৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

মানবজীবনকে আল্লাহ তাআলা ধারাবাহিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে পরিচালিত করেন—সত্য ও মিথ্যা, ভালো ও মন্দ, হালাল ও হারামের মধ্যে সঠিক পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা মানুষের জন্য নির্ধারিত। এই পরীক্ষারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষণীয় ঘটনা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারায় বর্ণিত বাবিল নগরীতে হারুত ও মারুত ফেরেশতাদ্বয়ের অবতরণের কাহিনি।

বাবিল (ব্যবিলন) ছিল প্রাচীন ইরাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী, যা খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ সালের দিকে সভ্যতার একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ঐ অঞ্চলে তখন জাদুবিদ্যার ব্যাপক প্রচলন ছিল। বিশেষ করে ইহুদিদের একটি অংশ নবী-রাসুলদের নিষেধ উপেক্ষা করে এই ভ্রান্ত চর্চায় লিপ্ত হয়ে পড়ে এবং জাদুকরদের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডকে অলৌকিক শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে।

এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা বাবিল নগরীতে হারুত ও মারুত নামের দুই ফেরেশতাকে মানব আকৃতিতে প্রেরণ করেন। তাদের দায়িত্ব ছিল মানুষকে জাদু ও নবীদের মুজিজার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝানো। তারা শিক্ষা দেওয়ার আগে সতর্ক করে বলতেন, এটি একটি পরীক্ষা, তাই কেউ যেন কুফরি বা ক্ষতিকর কাজে লিপ্ত না হয়।

কোরআনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নবী সুলাইমান (আ.) কখনো জাদুর মাধ্যমে রাজত্ব পরিচালনা করেননি; বরং শয়তানরাই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে জাদু শিক্ষা দিত। (সুরা বাকারা, আয়াত ১০২) এটি ছিল নবীর প্রতি আরোপিত একটি মিথ্যা অপবাদের খণ্ডন।

হারুত ও মারুত ফেরেশতারা মানুষকে জাদুর জ্ঞান শিক্ষা দিলেও তারা বারবার সতর্ক করতেন যে, এটি একটি পরীক্ষা। তবুও কিছু মানুষ সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে জাদু শিখে মানুষের ক্ষতি করতে শুরু করে, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর মতো অনৈতিক কাজে তা ব্যবহার করে।

কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কারো ক্ষতি করতে পারে না। এ জাদু মানুষের কোনো উপকারে আসে না, বরং ক্ষতির কারণ হয় এবং আখিরাতে এর জন্য কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। (সুরা বাকারা, আয়াত ১০২)

এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়, জ্ঞান ও শক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়—এর ব্যবহারই মানুষকে সফলতা বা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। শয়তান সবসময় সত্যকে বিকৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তাই ঈমানদারদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।

অবশেষে এই কাহিনি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, জীবন একটি পরীক্ষা। সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বুঝে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার পথ।

kalprakash.com/ SS