বাংলাদেশ ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইসলামে শ্রম ও সহকর্মীর মূল্য

সংগৃহীত ছবি

মানুষের কর্মজীবনে যোগ্য সহকর্মী ও সহযোগীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এ বিষয়টিকে শুধু সামাজিক প্রয়োজন নয়, বরং একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবেও উপস্থাপন করেছে। পবিত্র কোরআনে হজরত মুসা (আ.)-এর দোয়ার মাধ্যমে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর ভাই হারুন (আ.)-কে সহকারী হিসেবে চেয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহকর্মী ও সহায়কের প্রয়োজন অনিবার্য।

আবার কোরআনে বলা হয়েছে, প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তি সে-ই, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সততার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলাম অলসতা, পরনির্ভরতা বা ভোগবাদিতাকে সমর্থন করে না; বরং শ্রম, চেষ্টা ও দায়িত্বশীলতাকে উৎসাহিত করে।

কোরআনে মানুষের মর্যাদা ও সক্ষমতার কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেখানে মানবজাতিকে সম্মানিত করা হয়েছে এবং তাদের জীবিকা ও সুবিধা দান করা হয়েছে। এতে কর্ম ও পরিশ্রমকে মানুষের মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।

ইসলামি দৃষ্টিতে শ্রমিক ও সহকর্মীর অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আরও বলা হয়েছে, শ্রমিকের পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধ করতে হবে, যা নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

ইসলামে কর্মপরিবেশে পারস্পরিক সহযোগিতা, সদাচরণ ও সহানুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ভালো কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে, কিন্তু অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনে নয়।

এছাড়া হাদিসে মুসলমানের পরিচয় হিসেবে অন্যের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি হাসিমুখে দেখা করাকেও সদকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা কর্মক্ষেত্রে সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক সম্পর্কের গুরুত্ব নির্দেশ করে।

সব মিলিয়ে ইসলাম শ্রমকে ইবাদতের অংশ হিসেবে দেখে এবং সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ককে সফলতা ও কল্যাণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামে শ্রম ও সহকর্মীর মূল্য

প্রকাশিত: ০৬:১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

মানুষের কর্মজীবনে যোগ্য সহকর্মী ও সহযোগীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম এ বিষয়টিকে শুধু সামাজিক প্রয়োজন নয়, বরং একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবেও উপস্থাপন করেছে। পবিত্র কোরআনে হজরত মুসা (আ.)-এর দোয়ার মাধ্যমে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর ভাই হারুন (আ.)-কে সহকারী হিসেবে চেয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহকর্মী ও সহায়কের প্রয়োজন অনিবার্য।

আবার কোরআনে বলা হয়েছে, প্রকৃত দায়িত্বশীল ব্যক্তি সে-ই, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত। এর মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সততার মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলাম অলসতা, পরনির্ভরতা বা ভোগবাদিতাকে সমর্থন করে না; বরং শ্রম, চেষ্টা ও দায়িত্বশীলতাকে উৎসাহিত করে।

কোরআনে মানুষের মর্যাদা ও সক্ষমতার কথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেখানে মানবজাতিকে সম্মানিত করা হয়েছে এবং তাদের জীবিকা ও সুবিধা দান করা হয়েছে। এতে কর্ম ও পরিশ্রমকে মানুষের মর্যাদার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।

ইসলামি দৃষ্টিতে শ্রমিক ও সহকর্মীর অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে হবে এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আরও বলা হয়েছে, শ্রমিকের পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধ করতে হবে, যা নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।

ইসলামে কর্মপরিবেশে পারস্পরিক সহযোগিতা, সদাচরণ ও সহানুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে, ভালো কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে, কিন্তু অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনে নয়।

এছাড়া হাদিসে মুসলমানের পরিচয় হিসেবে অন্যের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি হাসিমুখে দেখা করাকেও সদকা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা কর্মক্ষেত্রে সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক সম্পর্কের গুরুত্ব নির্দেশ করে।

সব মিলিয়ে ইসলাম শ্রমকে ইবাদতের অংশ হিসেবে দেখে এবং সহকর্মীর সঙ্গে সুসম্পর্ককে সফলতা ও কল্যাণের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে।

kalprakash.com/SS