বাংলাদেশ ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হয়

সংগৃহীত ছবি

ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান ইবাদত কোরবানি, যা কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে ফুটে ওঠে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আনুগত্যের ইতিহাস।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা কোরবানি ও ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কোরবানি করার নির্দেশও রয়েছে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং মানুষের তাকওয়াই গ্রহণযোগ্য হয়।

হাদিস শরিফেও কোরবানির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে এসেছে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা ব্যক্তিকে নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির দিনগুলোর আমলগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। এটি ওয়াজিব হয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক এবং মুকিম মুসলমানের কাছে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক।

নিসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে বোঝানো হয় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ। এই সম্পদ ১০ জিলহজের ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে।

ধর্মীয় আলেমদের মতে, কোরবানির মূল লক্ষ্য হলো আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জন। তাই কেবল বাহ্যিক পালন নয়, বরং আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি এই ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

কতটুকু সম্পদ থাকলে কোরবানি ওয়াজিব হয়

প্রকাশিত: ০৬:০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহভীতির অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই ঈদের প্রধান ইবাদত কোরবানি, যা কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে ফুটে ওঠে আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, আত্মত্যাগ এবং হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আনুগত্যের ইতিহাস।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা কোরবানি ও ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কোরবানি করার নির্দেশও রয়েছে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং মানুষের তাকওয়াই গ্রহণযোগ্য হয়।

হাদিস শরিফেও কোরবানির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে এসেছে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা ব্যক্তিকে নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির দিনগুলোর আমলগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। এটি ওয়াজিব হয় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক এবং মুকিম মুসলমানের কাছে যদি মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক।

নিসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে বোঝানো হয় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ বা সম্পদ। এই সম্পদ ১০ জিলহজের ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে।

ধর্মীয় আলেমদের মতে, কোরবানির মূল লক্ষ্য হলো আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জন। তাই কেবল বাহ্যিক পালন নয়, বরং আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি এই ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।

kalprakash.com/SS