বাংলাদেশ ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উদযাপিত বুদ্ধ পূর্ণিমা

পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা) উপলক্ষে রাঙামাটি শহরে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নর-নারী, ভিক্ষু-শ্রমণ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১ মে) সকালে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি। এতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও ধর্মীয় প্রতীক বহন করেন। শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নেতৃত্ব দেন এবং শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। ব্যানারে ধর্মীয় শোভাযাত্রা এবং বুদ্ধ পূর্ণিমা (Vesak Day) উপলক্ষে বিশ্বশান্তি কামনার বার্তা তুলে ধরা হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি পোশাক পরে বর্ণিল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তারা হাতে বহন করা ফলকে ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ’ লেখা প্রদর্শন করেন, যা উৎসবের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে। এ সময় ধর্মীয় সংগীত, প্রার্থনা ও বুদ্ধের জীবনাদর্শ নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।

আয়োজকরা জানান, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই তিনটি ঘটনাই একই দিনে সংঘটিত হওয়ায় বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনটি উপলক্ষে তারা অহিংসা, সহনশীলতা, দয়া ও মানবতার শিক্ষা প্রচারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

শোভাযাত্রা শেষে রাঙামাটি বিহারে ধর্মীয় আলোচনা, প্রার্থনা ও দান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

ধর্মীয় এই আয়োজন রাঙামাটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে আবারও প্রমাণ করেছে যে, এখানে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ মিলেমিশে একসঙ্গে উৎসব উদযাপন করে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উদযাপিত বুদ্ধ পূর্ণিমা

প্রকাশিত: ০৩:৪৫:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা) উপলক্ষে রাঙামাটি শহরে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত এই শোভাযাত্রায় বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নর-নারী, ভিক্ষু-শ্রমণ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার (১ মে) সকালে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি। এতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও ধর্মীয় প্রতীক বহন করেন। শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নেতৃত্ব দেন এবং শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন। ব্যানারে ধর্মীয় শোভাযাত্রা এবং বুদ্ধ পূর্ণিমা (Vesak Day) উপলক্ষে বিশ্বশান্তি কামনার বার্তা তুলে ধরা হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি পোশাক পরে বর্ণিল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তারা হাতে বহন করা ফলকে ‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ’ লেখা প্রদর্শন করেন, যা উৎসবের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে। এ সময় ধর্মীয় সংগীত, প্রার্থনা ও বুদ্ধের জীবনাদর্শ নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।

আয়োজকরা জানান, গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই তিনটি ঘটনাই একই দিনে সংঘটিত হওয়ায় বুদ্ধ পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনটি উপলক্ষে তারা অহিংসা, সহনশীলতা, দয়া ও মানবতার শিক্ষা প্রচারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

শোভাযাত্রা শেষে রাঙামাটি বিহারে ধর্মীয় আলোচনা, প্রার্থনা ও দান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

ধর্মীয় এই আয়োজন রাঙামাটির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে আবারও প্রমাণ করেছে যে, এখানে ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ মিলেমিশে একসঙ্গে উৎসব উদযাপন করে।