বাংলাদেশ ০৪:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট Logo নবনিযুক্ত কুবি উপাচার্যকে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শুভেচ্ছা Logo নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষকদলের কমিটি গঠন, আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব সবুর Logo পাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম Logo স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, দম্পতির ওপর হামলা Logo চিতলমারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন, কৃষকের ধান কিনছে সরকার Logo তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠন এসএসপির নেতৃত্বে মজনু-আবিদ Logo যোগদানের আগেই বেরোবির নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল Logo ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কঠোর করনীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিএসআরএফের যৌথ আয়োজনে ‘আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তিনি বলেন, তামাকপণ্যের মূল্য শুধু বাড়ালেই হবে না, তা মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হারে বাড়াতে হবে।

সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল ও বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান।

বক্তারা বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য এখনও অনেক সস্তা। ফলে মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যবৃদ্ধি না হওয়ায় তামাকপণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। এতে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমছে না।

তাদের মতে, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যেখানে এই খাত থেকে রাজস্ব এসেছে মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৮৯ শতাংশ, আলুর দাম ৮৬ শতাংশ এবং আটার দাম ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সহজলভ্য হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও প্রস্তাব করেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে নতুন তিন স্তরের মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০, ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক বলেন, বাজেটের আগে তামাক কোম্পানিগুলো কর ও দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে চোরাচালানের ভয় দেখায়, যা বাস্তবভিত্তিক নয়। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম এখনও কম। তাই তামাক কোম্পানিগুলোর বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

kalprakash.com/SS
জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাকপণ্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি

প্রকাশিত: ০৪:২১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের ওপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কঠোর করনীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সিরডাপ অডিটোরিয়ামে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বিএসআরএফের যৌথ আয়োজনে ‘আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তিনি বলেন, তামাকপণ্যের মূল্য শুধু বাড়ালেই হবে না, তা মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হারে বাড়াতে হবে।

সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল ও বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান।

বক্তারা বলেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য এখনও অনেক সস্তা। ফলে মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যবৃদ্ধি না হওয়ায় তামাকপণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থেকে যাচ্ছে। এতে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহারের প্রবণতা কমছে না।

তাদের মতে, বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যেখানে এই খাত থেকে রাজস্ব এসেছে মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৮৯ শতাংশ, আলুর দাম ৮৬ শতাংশ এবং আটার দাম ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ এবং মধ্যম স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে ৬ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে নিত্যপণ্যের তুলনায় সিগারেট আরও সহজলভ্য হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও প্রস্তাব করেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে নতুন তিন স্তরের মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ১০০, ১৫০ ও ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হক বলেন, বাজেটের আগে তামাক কোম্পানিগুলো কর ও দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে চোরাচালানের ভয় দেখায়, যা বাস্তবভিত্তিক নয়। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম এখনও কম। তাই তামাক কোম্পানিগুলোর বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

kalprakash.com/SS