বাংলাদেশ ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মহানবী (সা.) যাকে উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত বলেছিলেন

ইসলামের ইতিহাসে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) এমন এক মহান সাহাবী, যিনি শুধু সাহসী যোদ্ধাই নন, বরং ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ও বিশ্বস্ত সহচর। তিনি প্রথম দিকের ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন এবং কোরআন সংকলনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর সততা, বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়ণতার কারণে মহানবী (সা.) তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন এবং উম্মাহর ‘আমিন’ বা সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেন।

একবার নাজরানের কিছু লোক মহানবী (সা.)-এর কাছে একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধি চাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, তিনি তাদের কাছে একজন সত্যিকারের বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে পাঠাবেন। সাহাবীদের মধ্যে তখন এ মর্যাদা পাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু মহানবী (সা.) সবার মধ্য থেকে আবু উবাইদাহ (রা.)-কেই নির্বাচন করেন। তিনি বলেন, উঠো হে আবু উবাইদাহ। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৭২৫৪) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে, আর এ উম্মাহর বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলো আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৪৩৮২)।

তিনি শুধু বিশ্বস্তই ছিলেন না, বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বেরও অনন্য উদাহরণ ছিলেন। নাজরানের খ্রিস্টানদের কাছে তাঁকে শিক্ষক ও প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয় এবং পরে তিনি তিনশ সাহাবীর একটি বাহিনীর সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গতভাবে রসদ বণ্টন করে সৈন্যদের মনোবল ধরে রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে বহু সফল অভিযান পরিচালিত হয় এবং ইসলামি বিজয়ের ধারা বিস্তৃত হয়।

আবু উবাইদাহ (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ সাহাবী। উহুদের যুদ্ধে মহানবী (সা.) আহত হলে তিনি নিজের দাঁত দিয়ে তাঁর মুখে আটকে থাকা লোহার রিং অপসারণ করেন। এতে তাঁর দুটি দাঁত পড়ে যায়, কিন্তু প্রিয় নবীর কষ্ট লাঘবে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। এই ঘটনা তাঁর আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, দুনিয়াবিমুখ এবং সহজ-সরল জীবনযাপনের অধিকারী। নেতৃত্বে থেকেও তাঁর মধ্যে অহংকার ছিল না। সৈন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর পুরো জীবনই ছিল আল্লাহর ওপর গভীর আস্থা, দায়িত্ববোধ এবং আখিরাতমুখী চিন্তার প্রতিফলন।

আবু উবাইদাহ (রা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়, সত্যিকারের নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব, বিশ্বস্ততা ও আত্মত্যাগ। তাঁর মতো চরিত্র গঠনই হতে পারে আজকের সমাজে আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার অন্যতম পথ।

kalprakash.com/SS
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবী (সা.) যাকে উম্মাহর সবচেয়ে বিশ্বস্ত বলেছিলেন

প্রকাশিত: ০৫:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামের ইতিহাসে আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) এমন এক মহান সাহাবী, যিনি শুধু সাহসী যোদ্ধাই নন, বরং ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত প্রিয় ও বিশ্বস্ত সহচর। তিনি প্রথম দিকের ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন এবং কোরআন সংকলনের ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর সততা, বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়ণতার কারণে মহানবী (সা.) তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন এবং উম্মাহর ‘আমিন’ বা সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেন।

একবার নাজরানের কিছু লোক মহানবী (সা.)-এর কাছে একজন বিশ্বস্ত প্রতিনিধি চাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, তিনি তাদের কাছে একজন সত্যিকারের বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে পাঠাবেন। সাহাবীদের মধ্যে তখন এ মর্যাদা পাওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু মহানবী (সা.) সবার মধ্য থেকে আবু উবাইদাহ (রা.)-কেই নির্বাচন করেন। তিনি বলেন, উঠো হে আবু উবাইদাহ। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৭২৫৪) অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক উম্মতের একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি থাকে, আর এ উম্মাহর বিশ্বস্ত ব্যক্তি হলো আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা.) (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৪৩৮২)।

তিনি শুধু বিশ্বস্তই ছিলেন না, বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্বেরও অনন্য উদাহরণ ছিলেন। নাজরানের খ্রিস্টানদের কাছে তাঁকে শিক্ষক ও প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয় এবং পরে তিনি তিনশ সাহাবীর একটি বাহিনীর সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত ন্যায়সঙ্গতভাবে রসদ বণ্টন করে সৈন্যদের মনোবল ধরে রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে বহু সফল অভিযান পরিচালিত হয় এবং ইসলামি বিজয়ের ধারা বিস্তৃত হয়।

আবু উবাইদাহ (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ সাহাবী। উহুদের যুদ্ধে মহানবী (সা.) আহত হলে তিনি নিজের দাঁত দিয়ে তাঁর মুখে আটকে থাকা লোহার রিং অপসারণ করেন। এতে তাঁর দুটি দাঁত পড়ে যায়, কিন্তু প্রিয় নবীর কষ্ট লাঘবে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। এই ঘটনা তাঁর আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, দুনিয়াবিমুখ এবং সহজ-সরল জীবনযাপনের অধিকারী। নেতৃত্বে থেকেও তাঁর মধ্যে অহংকার ছিল না। সৈন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর পুরো জীবনই ছিল আল্লাহর ওপর গভীর আস্থা, দায়িত্ববোধ এবং আখিরাতমুখী চিন্তার প্রতিফলন।

আবু উবাইদাহ (রা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়, সত্যিকারের নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব, বিশ্বস্ততা ও আত্মত্যাগ। তাঁর মতো চরিত্র গঠনই হতে পারে আজকের সমাজে আদর্শ মুসলিম ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলার অন্যতম পথ।

kalprakash.com/SS