বাংলাদেশ ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মহানবী (সা.) যে সময়ে মিসওয়াক করতেন

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০৫:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 21

সংগৃহীত ছবি

মিসওয়াক বা সিওয়াক শব্দটি ‘সাক’ ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ ঘষা, মাজা বা পরিষ্কার করা। ইসলামী পরিভাষায় দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করার জন্য গাছের ডাল ব্যবহার করাকে মিসওয়াক বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে মিসওয়াক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ। তিনি নিয়মিত মিসওয়াক করতেন এবং উম্মতকেও এ বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। আমির ইবন রাবিআহ (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে রোজা অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছি।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪

মিসওয়াক করার সময় মহানবী (সা.) জিহ্বাও পরিষ্কার করতেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, আমি একবার নবী (সা.)-এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন মিসওয়াকের একটি অংশ তাঁর জিহ্বার ওপর ছিল।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪

নিম্নে মহানবী (সা.) যেসব সময়ে মিসওয়াক করতেন, তা তুলে ধরা হলো—

ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠেই মিসওয়াক করতেন। হুজাইফা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘুম থেকে জাগতেন, তখন মিসওয়াকের মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার করতেন।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৫, ১১৩৬

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর সময় মিসওয়াক পাশে রাখতেন। জাগ্রত হয়ে প্রথমেই তিনি মিসওয়াক করতেন।
—মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৫৯৭৯

ঘরে প্রবেশের সময়

ঘরে প্রবেশ করার পরও তিনি মিসওয়াক করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন।
—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫১

সালাতের আগে

নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করা ছিল তাঁর অভ্যাস। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য মিসওয়াক ও অজুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। তিনি জেগে উঠে প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর অজু করে সালাত আদায় করতেন।
—সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৪৬

মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে

জীবনের শেষ সময়েও মহানবী (সা.) মিসওয়াক করেছেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) হাতে একটি তাজা মিসওয়াক নিয়ে আসেন। নবী (সা.) সেটির দিকে তাকালে আয়েশা (রা.) বুঝতে পারেন তিনি মিসওয়াক করতে চান। তিনি সেটি নরম করে পরিষ্কার করে দেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করেন।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৪৫১

মিসওয়াক শুধু মুখের পরিচ্ছন্নতাই নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। নিয়মিত মিসওয়াক করা শারীরিক সুস্থতা ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জনেরও একটি মাধ্যম।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবী (সা.) যে সময়ে মিসওয়াক করতেন

প্রকাশিত: ০৫:১৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মিসওয়াক বা সিওয়াক শব্দটি ‘সাক’ ধাতু থেকে এসেছে। এর অর্থ ঘষা, মাজা বা পরিষ্কার করা। ইসলামী পরিভাষায় দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করার জন্য গাছের ডাল ব্যবহার করাকে মিসওয়াক বলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে মিসওয়াক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ। তিনি নিয়মিত মিসওয়াক করতেন এবং উম্মতকেও এ বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। আমির ইবন রাবিআহ (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে রোজা অবস্থায় অসংখ্যবার মিসওয়াক করতে দেখেছি।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৩৪

মিসওয়াক করার সময় মহানবী (সা.) জিহ্বাও পরিষ্কার করতেন। আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, আমি একবার নবী (সা.)-এর কাছে প্রবেশ করলাম। তখন মিসওয়াকের একটি অংশ তাঁর জিহ্বার ওপর ছিল।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪

নিম্নে মহানবী (সা.) যেসব সময়ে মিসওয়াক করতেন, তা তুলে ধরা হলো—

ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর

রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠেই মিসওয়াক করতেন। হুজাইফা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘুম থেকে জাগতেন, তখন মিসওয়াকের মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার করতেন।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৫, ১১৩৬

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর সময় মিসওয়াক পাশে রাখতেন। জাগ্রত হয়ে প্রথমেই তিনি মিসওয়াক করতেন।
—মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ৫৯৭৯

ঘরে প্রবেশের সময়

ঘরে প্রবেশ করার পরও তিনি মিসওয়াক করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন সর্বপ্রথম মিসওয়াক করতেন।
—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫১

সালাতের আগে

নামাজের পূর্বে মিসওয়াক করা ছিল তাঁর অভ্যাস। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য মিসওয়াক ও অজুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। তিনি জেগে উঠে প্রথমে মিসওয়াক করতেন, তারপর অজু করে সালাত আদায় করতেন।
—সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৪৬

মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে

জীবনের শেষ সময়েও মহানবী (সা.) মিসওয়াক করেছেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) হাতে একটি তাজা মিসওয়াক নিয়ে আসেন। নবী (সা.) সেটির দিকে তাকালে আয়েশা (রা.) বুঝতে পারেন তিনি মিসওয়াক করতে চান। তিনি সেটি নরম করে পরিষ্কার করে দেন। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত সুন্দরভাবে দাঁত পরিষ্কার করেন।
—সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৪৫১

মিসওয়াক শুধু মুখের পরিচ্ছন্নতাই নিশ্চিত করে না, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। নিয়মিত মিসওয়াক করা শারীরিক সুস্থতা ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জনেরও একটি মাধ্যম।

kalprakash.com/SS