বাংলাদেশ ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলার অভিযোগ, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে এর জবাবে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

রোববার (২০ এপ্রিল) রাতে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর এ অভিযানের নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌসেনারা জাহাজটির ডেকে উঠে ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ওমান সাগরে ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়েছে এবং সশস্ত্র নৌসেনা মোতায়েন করেছে, যার ফলে জাহাজটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই ঘটনাকে সশস্ত্র জলদস্যুতা হিসেবে দেখছে এবং এর উপযুক্ত জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে।

খবরে বলা হয়, চীনের দিক থেকে ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করা টোসকা নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জাহাজটি ওমান উপসাগর দিয়ে চলাচল করছিল বলে দাবি করা হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই ড্রোন হামলার মাধ্যমে ওই এলাকায় অবস্থানরত কয়েকটি মার্কিন সামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানি জাহাজটি দখল করেছে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে।

ইরান আগেই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ইরানের অনুমতি ছাড়া এ জলপথে কোনো জাহাজ চলাচল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

তবে শুক্রবার ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য এটি বন্ধ ছিল।

গত ৭ এপ্রিল, টানা ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ-সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ হলে জলপথটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।

সূত্র: প্রেস টিভি

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলার অভিযোগ, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

প্রকাশিত: ১১:১২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে এর জবাবে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

রোববার (২০ এপ্রিল) রাতে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর এ অভিযানের নিন্দা জানান। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নৌসেনারা জাহাজটির ডেকে উঠে ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ওমান সাগরে ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়েছে এবং সশস্ত্র নৌসেনা মোতায়েন করেছে, যার ফলে জাহাজটির কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই ঘটনাকে সশস্ত্র জলদস্যুতা হিসেবে দেখছে এবং এর উপযুক্ত জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে।

খবরে বলা হয়, চীনের দিক থেকে ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করা টোসকা নামের একটি কন্টেইনার জাহাজে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জাহাজটি ওমান উপসাগর দিয়ে চলাচল করছিল বলে দাবি করা হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ঘটনার পরপরই ড্রোন হামলার মাধ্যমে ওই এলাকায় অবস্থানরত কয়েকটি মার্কিন সামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানি জাহাজটি দখল করেছে। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়েছে।

ইরান আগেই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করলে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ইরানের অনুমতি ছাড়া এ জলপথে কোনো জাহাজ চলাচল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

তবে শুক্রবার ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য এটি বন্ধ ছিল।

গত ৭ এপ্রিল, টানা ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ-সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ হলে জলপথটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে।

সূত্র: প্রেস টিভি

kalprakash.com/SS