এশিয়ার জ্বালানি বাজারে আবারও তীব্র ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়া এবং ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে পশ্চিম টেক্সাস মধ্যবর্তী (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা ফের দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি বেড়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। সিঙ্গাপুরের এক অর্থনীতিবিদ বলেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।
এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ও দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক উভয়ই কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টক ফিউচারেও দরপতনের ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় এশিয়ার দেশগুলো এই সংকটের প্রভাব বেশি অনুভব করছে।
অন্যদিকে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানগামী ও ইরান থেকে আসা জাহাজগুলোই কেবল বাধাগ্রস্ত হবে, অন্য আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো ধরনের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো পদক্ষেপ কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
kalprakash.com/SS
বাণিজ্য ডেস্ক 






















