বাংলাদেশ ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
দেবীদ্বার-এ খারিজে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

৬০ হাজার নিয়েও ৪ মাসে হয়নি নামজারি

দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খারিজ (নামজারি) করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খারিজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাসে ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও চার মাস ধরে কাজ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এমনকি অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতেহাবাদ বাজারের মিনহাজ নামের এক ব্যক্তি একটি জমির খারিজের জন্য প্রায় চার মাস আগে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মিনহাজকে ভূমি অফিসের বিপরীতে আশরাফুল মেম্বারের দোকানে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে আশরাফুল মেম্বারের মাধ্যমে আল আমিনের জন্য ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, একটি দাগে ভুল রয়েছে—এ কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও দীর্ঘ চার মাস পেরিয়ে গেলেও খারিজ সম্পন্ন হয়নি। বরং এখন আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মিনহাজ।

এদিকে মিনহাজের আত্মীয় মো. ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার মা মৃত আবু বিবির ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত চার শতক জমি আলী মিয়া প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করে নেন। বিষয়টি সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করা হলে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে আবেদনটি ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

ফরিদ উদ্দিনের দাবি, সংশ্লিষ্ট নায়েব আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রতিবেদন ঝুলিয়ে রাখেন এবং আবেদনকারীর বিপক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে আলী মিয়ার ছেলে আবদুর রউফকে ডেকে নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জমিটি তার নাতনির নামে খারিজ করে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ন্যায্য কাজ সম্পন্ন করতে ঘুষ ছাড়া উপায় থাকে না। দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

দেবীদ্বার-এ খারিজে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

৬০ হাজার নিয়েও ৪ মাসে হয়নি নামজারি

প্রকাশিত: ০৭:৩০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খারিজ (নামজারি) করতে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খারিজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাসে ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও চার মাস ধরে কাজ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এমনকি অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফতেহাবাদ বাজারের মিনহাজ নামের এক ব্যক্তি একটি জমির খারিজের জন্য প্রায় চার মাস আগে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মিনহাজকে ভূমি অফিসের বিপরীতে আশরাফুল মেম্বারের দোকানে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে আশরাফুল মেম্বারের মাধ্যমে আল আমিনের জন্য ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, একটি দাগে ভুল রয়েছে—এ কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও দীর্ঘ চার মাস পেরিয়ে গেলেও খারিজ সম্পন্ন হয়নি। বরং এখন আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মিনহাজ।

এদিকে মিনহাজের আত্মীয় মো. ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ করেন, তার মা মৃত আবু বিবির ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত চার শতক জমি আলী মিয়া প্রতারণার মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করে নেন। বিষয়টি সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করা হলে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে আবেদনটি ফতেহাবাদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

ফরিদ উদ্দিনের দাবি, সংশ্লিষ্ট নায়েব আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রতিবেদন ঝুলিয়ে রাখেন এবং আবেদনকারীর বিপক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে আলী মিয়ার ছেলে আবদুর রউফকে ডেকে নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জমিটি তার নাতনির নামে খারিজ করে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ন্যায্য কাজ সম্পন্ন করতে ঘুষ ছাড়া উপায় থাকে না। দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।