বাংলাদেশ ০২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

গরমে পাতলা পোশাক পরার ইসলামি বিধান

সংগৃহীত ছবি

গরমের সময় স্বস্তির জন্য হালকা ও পাতলা পোশাক পরার প্রবণতা দেখা যায়। ইসলাম এই স্বাভাবিক প্রয়োজনকে অস্বীকার করে না, তবে পোশাকের ক্ষেত্রে শালীনতা, পর্দা ও সতর রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

আল-কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আচ্ছাদন করে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে (সুরা আরাফ, আয়াত ২৬)। একইভাবে দৃষ্টি সংযত রাখা ও সতর হেফাজতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (সুরা নূর, আয়াত ৩০-৩১)।

ইসলামি দৃষ্টিতে পোশাকের মূল নীতি

ইসলামে পোশাকের বৈধতা নির্ভর করে তা সতর ঢেকে রাখছে কি না তার ওপর। পোশাক এমন হতে হবে যাতে শরীরের গোপন অংশ বা আকৃতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পায়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত সতর গণ্য হয়, যা আবৃত রাখা ফরজ। নারীদের ক্ষেত্রে সতর আরও বিস্তৃত এবং গায়রে মাহরামদের সামনে পুরো শরীর ঢেকে রাখা আবশ্যক।

পাতলা পোশাকের বিধান

যদি কোনো পোশাক এতটাই পাতলা হয় যে শরীর বা সতরের আকৃতি স্পষ্ট বোঝা যায়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। কারণ হাদিসে এমন নারীদের সতর্ক করা হয়েছে যারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গের মতো থাকে (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৪)।

তবে যদি পোশাক পাতলা হলেও শরীরের গঠন বা সতর প্রকাশ না পায়, এবং শালীনতা বজায় থাকে, তাহলে তা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে ফিকহবিদরা উল্লেখ করেছেন।

নারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা

ইসলাম নারীর পর্দা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই নারীদের জন্য ঢিলেঢালা, অস্বচ্ছ ও শালীন পোশাক পরিধান করা আবশ্যক, যাতে দৃষ্টি আকর্ষণ বা ফিতনার আশঙ্কা না থাকে।

উপসংহার

গরমে আরামদায়ক পোশাক পরা ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি, তবে শর্ত হলো শালীনতা ও সতর রক্ষা করতে হবে। একজন মুমিনের জন্য বাহ্যিক আরামের চেয়ে ঈমান, পর্দা ও তাকওয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রকৃত সৌন্দর্য পোশাকে নয়, বরং লজ্জাশীলতা ও আল্লাহভীতির মধ্যেই নিহিত।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

গরমে পাতলা পোশাক পরার ইসলামি বিধান

প্রকাশিত: ০৫:৪০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গরমের সময় স্বস্তির জন্য হালকা ও পাতলা পোশাক পরার প্রবণতা দেখা যায়। ইসলাম এই স্বাভাবিক প্রয়োজনকে অস্বীকার করে না, তবে পোশাকের ক্ষেত্রে শালীনতা, পর্দা ও সতর রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

আল-কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আচ্ছাদন করে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে (সুরা আরাফ, আয়াত ২৬)। একইভাবে দৃষ্টি সংযত রাখা ও সতর হেফাজতের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (সুরা নূর, আয়াত ৩০-৩১)।

ইসলামি দৃষ্টিতে পোশাকের মূল নীতি

ইসলামে পোশাকের বৈধতা নির্ভর করে তা সতর ঢেকে রাখছে কি না তার ওপর। পোশাক এমন হতে হবে যাতে শরীরের গোপন অংশ বা আকৃতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ না পায়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত সতর গণ্য হয়, যা আবৃত রাখা ফরজ। নারীদের ক্ষেত্রে সতর আরও বিস্তৃত এবং গায়রে মাহরামদের সামনে পুরো শরীর ঢেকে রাখা আবশ্যক।

পাতলা পোশাকের বিধান

যদি কোনো পোশাক এতটাই পাতলা হয় যে শরীর বা সতরের আকৃতি স্পষ্ট বোঝা যায়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। কারণ হাদিসে এমন নারীদের সতর্ক করা হয়েছে যারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গের মতো থাকে (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২১২৪)।

তবে যদি পোশাক পাতলা হলেও শরীরের গঠন বা সতর প্রকাশ না পায়, এবং শালীনতা বজায় থাকে, তাহলে তা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে ফিকহবিদরা উল্লেখ করেছেন।

নারীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা

ইসলাম নারীর পর্দা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তাই নারীদের জন্য ঢিলেঢালা, অস্বচ্ছ ও শালীন পোশাক পরিধান করা আবশ্যক, যাতে দৃষ্টি আকর্ষণ বা ফিতনার আশঙ্কা না থাকে।

উপসংহার

গরমে আরামদায়ক পোশাক পরা ইসলাম নিষিদ্ধ করেনি, তবে শর্ত হলো শালীনতা ও সতর রক্ষা করতে হবে। একজন মুমিনের জন্য বাহ্যিক আরামের চেয়ে ঈমান, পর্দা ও তাকওয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রকৃত সৌন্দর্য পোশাকে নয়, বরং লজ্জাশীলতা ও আল্লাহভীতির মধ্যেই নিহিত।

kalprakash.com/SS