আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন মুআজ (রা.) মহানবী (সা.)-এর বাহনের পেছনে বসা ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বারবার সম্বোধন করে বলেন, হে মুআজ। মুআজ (রা.) প্রতিবারই বলেন, লাব্বাইক ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি উপস্থিত আছি।
এভাবে তিনবার সম্বোধনের পর মহানবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে সাক্ষ্য দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।
এ কথা শুনে মুআজ (রা.) জিজ্ঞেস করেন, আমি কি এই সুসংবাদ মানুষদের জানিয়ে দেব? যাতে তারা আনন্দিত হয়। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, না, তাহলে তারা শুধু এর ওপর ভরসা করে বসে থাকতে পারে এবং আমলে শৈথিল্য আসতে পারে।
তাই মুআজ (রা.) পরে মৃত্যুর সময় এই হাদিসটি বর্ণনা করেন, যাতে দ্বিনের জ্ঞান গোপন করার গুনাহ থেকে বাঁচা যায়।
শিক্ষা ও বিধান
১. তাওহিদই মুক্তির মূল ভিত্তি
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ—এই সাক্ষ্য আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করাই জান্নাত লাভের পথ।
২. অন্তরের বিশ্বাস জরুরি
শুধু মুখে বলা নয়, হৃদয়ে দৃঢ় ঈমান থাকা আবশ্যক।
৩. রাসুল (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য ঈমানের অংশ
তাঁকে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করা ঈমানের মৌলিক শর্ত।
৪. গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বারবার বলা সুন্নত
রাসুল (সা.) তিনবার সম্বোধন করে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝিয়েছেন।
৫. আদব ও সম্মানের শিক্ষা
সাহাবায়ে কেরামের মতো শিক্ষক ও বড়দের প্রতি বিনয় ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত।
৬. শুধু আশার ওপর নির্ভর নয়, আমলও জরুরি
ঈমানের সঙ্গে নেক আমল ছাড়া পূর্ণতা আসে না।
৭. ইলম গোপন করা উচিত নয়
দ্বিনের জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া দায়িত্ব।
৮. সত্য ঈমান মুক্তির পথ
খাঁটি ঈমান মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়, ইনশাআল্লাহ।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























