বাংলাদেশ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইসলামের দৃষ্টিতে এআই দিয়ে ভাগ্য গণনা: বিশ্বাস ও প্রযুক্তির সীমারেখা

সংগৃহীত ছবি

বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের জীবনকে সহজ করলেও এর অপব্যবহার নতুন ধরনের বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি অনেকে এআই টুল ব্যবহার করে হাতের রেখা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা করছেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআই-এর ‘চ্যাটজিপিটি ইমেজ ২.০’ মডেল ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের হাতের ছবি আপলোড করে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাচ্ছেন।

বিষয়টি অনেকের কাছে কৌতূহল বা বিনোদনের মতো মনে হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, কারণ এটি গায়েব বা অদৃশ্য জ্ঞান জানার দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইসলামে গায়েবের জ্ঞান

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস অনুযায়ী ভবিষ্যৎ বা অদৃশ্য জ্ঞানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। মানুষ, জ্যোতিষী বা কোনো প্রযুক্তি—কারো পক্ষেই তা জানা সম্ভব নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“বলো, আল্লাহ ছাড়া আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না…” (সুরা নামল, আয়াত: ৬৫)

আরও বলা হয়েছে—
“আর তাঁর কাছেই রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ।” (সুরা আনআম, আয়াত: ৫৯)

অতএব হাতের রেখা বা অন্য কোনো মাধ্যমের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিশ্বাস ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

গণক ও জ্যোতিষ বিষয়ে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) গণক বা ভবিষ্যৎ বলার দাবি করা ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে যায় এবং তাকে সত্য মনে করে, সে ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ করে (মুসনাদে আহমদ)।

অন্য হাদিসে এসেছে, কোনো গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৭১৪)।

এআই ব্যবহার ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

এআই মূলত একটি প্রযুক্তি, যা অ্যালগরিদম ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাজ করে। এটি ভবিষ্যৎ জানার কোনো মাধ্যম নয়। তাই এটিকে ভাগ্য নির্ধারণ বা অদৃশ্য জ্ঞানের উৎস হিসেবে বিশ্বাস করা ইসলামী আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইসলাম কুসংস্কার, গায়েব জানার দাবি এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সকল অবৈধ পন্থা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং বৈধ ও শরিয়তসম্মত উপায়ে জীবন পরিচালনা করা।

উপসংহার

ইসলামের দৃষ্টিতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বৈধ ও উপকারী, যদি তা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে ভবিষ্যৎ জানা, ভাগ্য নির্ধারণ বা হাতের রেখা বিশ্লেষণের মতো কাজে এআই ব্যবহার করা কেবল বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং ঈমানের দৃষ্টিতেও অনুচিত।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামের দৃষ্টিতে এআই দিয়ে ভাগ্য গণনা: বিশ্বাস ও প্রযুক্তির সীমারেখা

প্রকাশিত: ০৬:১৮:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের জীবনকে সহজ করলেও এর অপব্যবহার নতুন ধরনের বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি অনেকে এআই টুল ব্যবহার করে হাতের রেখা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা করছেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআই-এর ‘চ্যাটজিপিটি ইমেজ ২.০’ মডেল ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের হাতের ছবি আপলোড করে বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাচ্ছেন।

বিষয়টি অনেকের কাছে কৌতূহল বা বিনোদনের মতো মনে হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, কারণ এটি গায়েব বা অদৃশ্য জ্ঞান জানার দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইসলামে গায়েবের জ্ঞান

ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস অনুযায়ী ভবিষ্যৎ বা অদৃশ্য জ্ঞানের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। মানুষ, জ্যোতিষী বা কোনো প্রযুক্তি—কারো পক্ষেই তা জানা সম্ভব নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“বলো, আল্লাহ ছাড়া আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা গায়েব জানে না…” (সুরা নামল, আয়াত: ৬৫)

আরও বলা হয়েছে—
“আর তাঁর কাছেই রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ।” (সুরা আনআম, আয়াত: ৫৯)

অতএব হাতের রেখা বা অন্য কোনো মাধ্যমের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিশ্বাস ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

গণক ও জ্যোতিষ বিষয়ে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) গণক বা ভবিষ্যৎ বলার দাবি করা ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে যায় এবং তাকে সত্য মনে করে, সে ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কাজ করে (মুসনাদে আহমদ)।

অন্য হাদিসে এসেছে, কোনো গণকের কাছে গিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলে তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল হয় না (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৭১৪)।

এআই ব্যবহার ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

এআই মূলত একটি প্রযুক্তি, যা অ্যালগরিদম ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কাজ করে। এটি ভবিষ্যৎ জানার কোনো মাধ্যম নয়। তাই এটিকে ভাগ্য নির্ধারণ বা অদৃশ্য জ্ঞানের উৎস হিসেবে বিশ্বাস করা ইসলামী আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইসলাম কুসংস্কার, গায়েব জানার দাবি এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সকল অবৈধ পন্থা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। একজন মুসলিমের দায়িত্ব হলো একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং বৈধ ও শরিয়তসম্মত উপায়ে জীবন পরিচালনা করা।

উপসংহার

ইসলামের দৃষ্টিতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বৈধ ও উপকারী, যদি তা সঠিক কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে ভবিষ্যৎ জানা, ভাগ্য নির্ধারণ বা হাতের রেখা বিশ্লেষণের মতো কাজে এআই ব্যবহার করা কেবল বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং ঈমানের দৃষ্টিতেও অনুচিত।

kalprakash.com/SS