বাংলাদেশ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

উত্তরায় বাবার সামনে স্কুলছাত্রী অপহরণ, প্রধান আসামি লামিন ১ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি লামিন ইসলাম (১৯)কে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক ফরিদউজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি আদালতে জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও বিস্তারিত তথ্য জানতেই রিমান্ড প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শহীদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, এটি অপহরণ নয়, বরং প্রেমঘটিত বিষয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটি স্বেচ্ছায় অভিযুক্তের সঙ্গে যায় এবং পূর্বেও তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। এ সংক্রান্ত কিছু ফোনকলের রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলেও জানান তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. শরীফুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল উত্তরা গার্লস স্কুলের পরীক্ষা শেষে মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন তার বাবা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের মোড়ে পৌঁছালে ৭-৮ জন অপহরণকারী তাদের গতিরোধ করে। এ সময় তারা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাবার সামনে থেকেই কিশোরীকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। পরে দুটি মোটরসাইকেলের পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অপহরণকারীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কামরুজ্জামান উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ১ মে গাজীপুরের পূবাইল থানার কফু মার্কেট এলাকা থেকে প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকেই অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় বাবার সামনে স্কুলছাত্রী অপহরণ, প্রধান আসামি লামিন ১ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ০৩:৩৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি লামিন ইসলাম (১৯)কে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক ফরিদউজ্জামান আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তিনি আদালতে জানান, ভুক্তভোগী কিশোরী অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধভাবে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও বিস্তারিত তথ্য জানতেই রিমান্ড প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শহীদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, এটি অপহরণ নয়, বরং প্রেমঘটিত বিষয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়েটি স্বেচ্ছায় অভিযুক্তের সঙ্গে যায় এবং পূর্বেও তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। এ সংক্রান্ত কিছু ফোনকলের রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলেও জানান তিনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ মো. শরীফুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটন ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল উত্তরা গার্লস স্কুলের পরীক্ষা শেষে মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন তার বাবা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কের মোড়ে পৌঁছালে ৭-৮ জন অপহরণকারী তাদের গতিরোধ করে। এ সময় তারা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাবার সামনে থেকেই কিশোরীকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। পরে দুটি মোটরসাইকেলের পাহারায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে অপহরণকারীরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কামরুজ্জামান উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ১ মে গাজীপুরের পূবাইল থানার কফু মার্কেট এলাকা থেকে প্রধান আসামি লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার হেফাজত থেকেই অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

kalprakash.com/SS