বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন করে ৪টি কারখানা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘লিড’ (LEED) সনদ অর্জন করায় দেশে এ ধরনের কারখানার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪টিতে।
এর মধ্যে ১২১টি কারখানা প্লাটিনাম এবং ১৪৪টি গোল্ড রেটিং অর্জন করেছে। পাশাপাশি বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০টি লিড কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৫২টি কারখানায় উন্নীত হয়েছে।
নতুনভাবে লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেড (ইউনিট-০২), যা লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ মানদণ্ডে ৮৬ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে।
গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ওয়েলডান অ্যাপারেল লিমিটেড, যা লিড ও+এম: এক্সিস্টিং বিল্ডিংস ভি৪.১ মানদণ্ডে ৭৫ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড সনদ অর্জন করে।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড ৮৩ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম সনদ লাভ করেছে।
গাজীপুরের সুরাবাড়িতে অবস্থিত সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (মামটেক্স) ৮৪ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এখন বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, টেকসই শিল্পায়নের সূচকে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাতারে। নতুন চারটি কারখানার যুক্ত হওয়া এ অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সবুজ শিল্পায়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শুধু উৎপাদন সক্ষমতায় নয়, পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থাপনায়ও বিশ্বে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























