বাংলাদেশ ০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নাঈমকে হেনস্তা: লিটন-মিরাজ-শান্ত-মুশফিকদের ক্ষোভ Logo ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশিকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত Logo স্বামীকে নিয়ে ট্রলের জবাব দিলেন অভিনেত্রী মিলি Logo পার্লামেন্ট থেকে সচিবালয়—সব জায়গায় হুতুমপেঁচা বসেছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo হয়রানি কমাতে ডিজিটাল কর ব্যবস্থা প্রয়োজন Logo মণিরামপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষার্থী নিহত Logo অপহরণ নয়, ধর্ষণের মামলা এড়াতে ছাত্রশিবির নেতার ‘আত্মগোপন’: পুলিশ Logo লালমনিরহাট চেম্বার নির্বাচনে সভাপতি পদে ভোটগ্রহণ, ব্যবসায়ী মহলে উৎসবের আমেজ Logo রাঙামাটিতে মাশরুম চাষ সম্প্রসারণ বিষয়ক আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo এসএমসিতে প্রোগ্রাম অফিসার নিয়োগ

যারা আল্লাহকে দেখার দাবি করেছিল—বনি ইসরাইলের ঘটনার শিক্ষা ও পরিণতি

সংগৃহীত ছবি

বনি ইসরাইলের ইতিহাস কুরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা ও শিক্ষার উৎস হিসেবে। আল্লাহ তাআলা তাদের বহু নিদর্শন দেখিয়েছিলেন—ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি, সাগর দ্বিখণ্ডিত হওয়া, আকাশ থেকে মান্না-সালওয়া নাজিল হওয়া—তবুও তাদের একাংশের অন্তরে ঈমানের দৃঢ়তা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এই প্রেক্ষাপটে তারা নবী মুসা (আ.)-এর কাছে এমন এক দাবি করে, যা ঈমানের মূলনীতির বিরোধী। তারা বলে, আমরা কখনো তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখি
সুরা বাকারা আয়াত ৫৫

এই দাবি ছিল কেবল প্রশ্ন নয়, বরং এক ধরনের ঔদ্ধত্য ও অস্বীকারের প্রকাশ। দুনিয়ার জীবনে আল্লাহকে সরাসরি দেখা মানুষের সীমার বাইরে—এটি ঈমানের মৌলিক বিশ্বাসের অংশ।

তাদের এই সীমালঙ্ঘনের পর কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উপর বজ্রাঘাত বা ভয়ংকর শাস্তি নেমে আসে, যা তাদের নিথর করে দেয়
সুরা বাকারা আয়াত ৫৫

তবে আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করেননি। বরং পরবর্তীতে তিনি তাদের পুনরুজ্জীবিত করেন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা ও সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ পায়
সুরা বাকারা আয়াত ৫৬

আরেক বর্ণনায় দেখা যায়, মুসা (আ.) তাঁর সম্প্রদায়ের কিছু নির্বাচিত লোককে নিয়ে গেলে তাদের ওপর ভয়ংকর কম্পন বা শাস্তি নেমে আসে
সুরা আরাফ আয়াত ১৫৫

এই ঘটনাগুলো থেকে কুরআন যে শিক্ষা দেয় তা অত্যন্ত গভীর। প্রথমত, ঈমান শুধু দৃশ্যমান জিনিসের উপর নির্ভর করে না, বরং অদৃশ্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই ঈমানের মূল ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, অহংকার ও সীমাহীন দাবি মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তৃতীয়ত, আল্লাহর শাস্তি যেমন কঠিন, তাঁর রহমতও তেমনি বিস্তৃত—তিনি চাইলে শাস্তির পরও সুযোগ দেন।

বনি ইসরাইলের এই ঘটনা আমাদের জন্য এক বাস্তব আয়না। নিদর্শন দেখেও যদি অন্তরে কৃতজ্ঞতা ও বিনয় না থাকে, তবে ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো অদেখা আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, তাঁর নির্দেশ মেনে চলা এবং অহংকার থেকে দূরে থাকা।

kalprakash.com/SS

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
যারা আল্লাহকে দেখার দাবি করেছিল—বনি ইসরাইলের ঘটনার শিক্ষা ও পরিণতি
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নাঈমকে হেনস্তা: লিটন-মিরাজ-শান্ত-মুশফিকদের ক্ষোভ

যারা আল্লাহকে দেখার দাবি করেছিল—বনি ইসরাইলের ঘটনার শিক্ষা ও পরিণতি

প্রকাশিত: ০৬:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বনি ইসরাইলের ইতিহাস কুরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে মানবজাতির জন্য সতর্কবার্তা ও শিক্ষার উৎস হিসেবে। আল্লাহ তাআলা তাদের বহু নিদর্শন দেখিয়েছিলেন—ফিরআউনের জুলুম থেকে মুক্তি, সাগর দ্বিখণ্ডিত হওয়া, আকাশ থেকে মান্না-সালওয়া নাজিল হওয়া—তবুও তাদের একাংশের অন্তরে ঈমানের দৃঢ়তা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এই প্রেক্ষাপটে তারা নবী মুসা (আ.)-এর কাছে এমন এক দাবি করে, যা ঈমানের মূলনীতির বিরোধী। তারা বলে, আমরা কখনো তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখি
সুরা বাকারা আয়াত ৫৫

এই দাবি ছিল কেবল প্রশ্ন নয়, বরং এক ধরনের ঔদ্ধত্য ও অস্বীকারের প্রকাশ। দুনিয়ার জীবনে আল্লাহকে সরাসরি দেখা মানুষের সীমার বাইরে—এটি ঈমানের মৌলিক বিশ্বাসের অংশ।

তাদের এই সীমালঙ্ঘনের পর কুরআনে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উপর বজ্রাঘাত বা ভয়ংকর শাস্তি নেমে আসে, যা তাদের নিথর করে দেয়
সুরা বাকারা আয়াত ৫৫

তবে আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করেননি। বরং পরবর্তীতে তিনি তাদের পুনরুজ্জীবিত করেন, যাতে তারা কৃতজ্ঞতা ও সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ পায়
সুরা বাকারা আয়াত ৫৬

আরেক বর্ণনায় দেখা যায়, মুসা (আ.) তাঁর সম্প্রদায়ের কিছু নির্বাচিত লোককে নিয়ে গেলে তাদের ওপর ভয়ংকর কম্পন বা শাস্তি নেমে আসে
সুরা আরাফ আয়াত ১৫৫

এই ঘটনাগুলো থেকে কুরআন যে শিক্ষা দেয় তা অত্যন্ত গভীর। প্রথমত, ঈমান শুধু দৃশ্যমান জিনিসের উপর নির্ভর করে না, বরং অদৃশ্যের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসই ঈমানের মূল ভিত্তি। দ্বিতীয়ত, অহংকার ও সীমাহীন দাবি মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তৃতীয়ত, আল্লাহর শাস্তি যেমন কঠিন, তাঁর রহমতও তেমনি বিস্তৃত—তিনি চাইলে শাস্তির পরও সুযোগ দেন।

বনি ইসরাইলের এই ঘটনা আমাদের জন্য এক বাস্তব আয়না। নিদর্শন দেখেও যদি অন্তরে কৃতজ্ঞতা ও বিনয় না থাকে, তবে ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই মুমিনের দায়িত্ব হলো অদেখা আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, তাঁর নির্দেশ মেনে চলা এবং অহংকার থেকে দূরে থাকা।

kalprakash.com/SS

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
যারা আল্লাহকে দেখার দাবি করেছিল—বনি ইসরাইলের ঘটনার শিক্ষা ও পরিণতি