একটি বিখ্যাত হাদিসে ঈমানের মানসিক ভারসাম্য ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির এক গভীর শিক্ষা পাওয়া যায়। হানজালা ইবনে রাবি আল-উসাইদি (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন আবু বকর (রা.) তার কাছে এসে তার অবস্থা জানতে চান। উত্তরে হানজালা (রা.) বলেন, তিনি নিজেকে মুনাফিক মনে করছেন।
কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে থাকলে জান্নাত-জাহান্নামের আলোচনা এমনভাবে হৃদয়ে প্রভাব ফেলে যেন তা চোখের সামনে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে পরিবার ও দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে সেই অনুভূতি অনেকটাই কমে যায়।
এ কথা শুনে আবু বকর (রা.) বলেন, তার অবস্থাও প্রায় একই রকম। এরপর দুজনই বিষয়টি নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে যান।
সব কথা শোনার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমরা সর্বদা সেই অবস্থায় থাকতে যে অবস্থায় আমার কাছে থাকো এবং সবসময় আল্লাহর স্মরণে থাকতে, তবে ফেরেশতারা তোমাদের সাথে পথে পথে মুসাফাহা করত। তবে তিনি আরও বলেন, হে হানজালা, কিছু সময় আল্লাহর জন্য রাখো, আর কিছু সময় দুনিয়ার কাজের জন্য রাখো। এই কথাটি তিনি তিনবার পুনরাবৃত্তি করেন।
এই হাদিসটি বোঝায় যে, ঈমান মানে সবসময় একই আবেগে থাকা নয়; বরং আখিরাতের চিন্তা ও দুনিয়ার দায়িত্বের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রকৃত ঈমানের সৌন্দর্য।
ভয় ও আশার মাঝামাঝি অবস্থানেই একজন মুমিনের হৃদয়ে ঈমানের সত্যিকারের স্বাদ অনুভূত হয়।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























