ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাইয়েদ আজম জানতে চেয়েছেন, মাসে নির্দিষ্ট কয়েকদিন দেরিতে অফিসে প্রবেশ করলে এক দিনের বেতন কেটে নেওয়ার নিয়ম শরিয়তসম্মত কি না।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে মূলনীতি হলো—চাকরি একটি চুক্তিভিত্তিক (আকদ) সম্পর্ক, যেখানে কর্মী ও নিয়োগকর্তা পারস্পরিক শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য। তাই নিয়োগের সময় যদি স্পষ্টভাবে বলা থাকে যে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে এবং দেরি হলে নির্দিষ্ট শাস্তি বা বেতন কর্তনের নিয়ম কার্যকর হবে, তবে সেই শর্ত মেনে চলা উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক।
ফিকহবিদদের মতে, কর্মীর সময় হলো প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত একটি আমানত। তাই কর্মী যদি নির্ধারিত সময় পূর্ণ না করেন, তবে সেই সময়ের পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার তার থাকে না।
ফাতাওয়ায়ে শামিতে উল্লেখ আছে, কোনো শিক্ষক বা কর্মী যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকেন, তবে তিনি সেই সময়ের বেতন পাবেন না, কারণ বেতন নির্ভর করে উপস্থিতির শর্তের ওপর।
একইভাবে ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়াতে বলা হয়েছে, নিয়োগের সময় যদি অনুপস্থিতি বা দেরির ক্ষেত্রে বেতন কর্তনের শর্ত নির্ধারণ করা থাকে, তবে সেই শর্ত অনুযায়ী বেতন কাটা বৈধ। তবে যদি এমন কোনো শর্ত না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত বা অন্যায্যভাবে বেতন কাটা জায়েজ নয়।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের সারসংক্ষেপ হলো—
যদি চাকরির শুরুতেই দেরি বা অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে বেতন কাটার শর্ত স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে, তবে প্রতিষ্ঠান সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে কর্তন অবশ্যই ন্যায্য হতে হবে এবং বাস্তব অনুপস্থিতি বা সময় ক্ষতির অনুপাতে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
ইসলাম ন্যায়বিচার, চুক্তি রক্ষা এবং পরস্পরের অধিকার সংরক্ষণের ওপর জোর দেয়। তাই কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েরই উচিত স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























