বাংলাদেশ ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হু হু করে নেমেছে Logo মৃত শাবককে পাহারা দিল হাতি দম্পতি Logo এপ্রিল থেকে অটোগ্যাসের দাম ১৭.৯৪ টাকা বেড়েছে, ১২ কেজি এলপিজিও দার বাড়ল Logo ইসলামী অর্থনীতির শীর্ষ ১০ বিদ্যাপীঠ Logo ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা Logo লক্ষ্মীপুরে ইটভাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে জকসু প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo চিতলমারীতে প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার সিকদারের আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত Logo ড. শাকিরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ Logo অবৈধভাবে কৃষি জমি খনন, ১ লাখ টাকা জরিমানা

পাকিস্তানের ‘ট্রাম্প কার্ড’ মোকাবিলায় যে ‘প্ল্যান’ সাজাচ্ছে ভারত

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ১১:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮০ বার দেখা হয়েছে

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ (রোববার) ভারত-পাকিস্তানের মহারণ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে নামার আগে উভয় দলই সেখানে অনুশীলন করেছে। পাকিস্তান যেমন স্পিন আক্রমণে শাণ দিয়েছে, তেমনি ভারতের অনুশীলনেও অদ্ভুত দৃশ্যের দেখা মেলে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দৌড়ে এসে বল করার মাঝপথে হঠাৎ থেমে যাচ্ছেন– একটু বিরতি দিয়ে তারপর বল ছাড়ছেন। একই কাজ করলেন ওয়াশিংটন সুন্দরও।

হঠাৎ কেন এই কৌশল তা হয়তো বিশ্বকাপে চোখ রাখা সমর্থকরা ইতেমধ্যেই জানেন। এমন বোলিং অ্যাকশনের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনায় আছেন পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক। তার রানআপ থামিয়ে লাসিথ মালিঙ্গার মতো একপাশ থেকে বল ছাড়ার ধরন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিও হাজির করছেন কেউ কেউ। এমন ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশন মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত। উসমান তারিককে পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আগা ‘ট্রাম্প-কার্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে যেকোনো আক্রমণ সামলাতে ভারত পরিকল্পনা সাজিয়েছে।

তারিকের প্রসঙ্গ তোলার পর সালমান জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে প্রতিটি খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ। উসমান অবশ্যই টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয় অসাধারণ বোলিং করে আসছে এবং তিনি আমাদের ট্রাম্প কার্ড। তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যত কথাই হোক না কেন, এটি আমাদের দৃষ্টিতে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না। ইতোমধ্যে দু’বার তার অ্যাকশন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। আমি জানি না মানুষ কেন অনবরত এটি নিয়ে প্রশ্ন করছে। তার বিষয়ে যতটুকু জানি, তিনিও (তারিক) এ নিয়ে অতটা ভাবেন না।’

এদিকে, ভারতের ব্যাটাররা বারবার তারিকের অনুকরণে সূর্য-সুন্দরদের করা থেমে-থেমে আসা ডেলিভারির মুখোমুখি হয়েছেন। চোখ ও মন প্রস্তুত করলেন এক ভিন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য, লক্ষ্যটা সহজ– উসমান তারিকের সেই অনন্য ‘পজ-অ্যান্ড-রিলিজ’ বোলিং অ্যাকশন সামলাতে যাতে অসুবিধা না হয়। পরবর্তীতে সূর্যকুমারও বলেছেন, ‘কখনও কখনও পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন আসে। সেই প্রশ্ন ফেলে রাখা যায় না। আমাদের নিজেদের মতো করে কিছু চেষ্টা করতে হবে। সে যখন বল করতে আসে, সে আলাদা চরিত্রের, কিন্তু আমরা তার সামনে আত্মসমর্পণ করতে পারি না।’

প্রেমাদাসার উইকেট ধীরগতির এবং স্পিনারদের সহায়তা দেয়। যে কারণে ভারত কিছুটা অস্বস্তিতে। ফলে টি-টোয়েন্টির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা এখন সচেতনভাবে পা বাড়াতে চায়। পাকিস্তান দলে স্পিন অপশন ব্যাপক– তারিক ছাড়াও আবরার আহমেদ, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজরা আছেন। আবার প্রেমাদাসার এক পাশের বাউন্ডারি ৮৪ গজ, অন্যটি ৭৪। উইকেটে ইতিমধ্যেই ক্ষয় হয়েছে, একই পিচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭০ রান তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটাররা হোঁচট খেয়েছেন। ফলে রান যে সহজে আসবে তা বলা যায়, ক্রিজে টিকে থেকে মানিয়ে নিতে হয়, এরপর সহজ হয়ে উঠতে পারে পাল্টা লড়াই।

ভারতের পেস এবং স্পিন বিভাগেও যথেষ্ট ভ্যারিয়েশন আছে। প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার জন্য তাদের সক্ষমতা আগেও দেখা গেছে বহুবার। তবে একাদশে কাকে খেলানো হবে সেটি স্পষ্ট করেননি অধিনায়ক সূর্যকুমার, ‘কোন পেসার খেলবে, কতজন পেসার আর কতজন স্পিনার– এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন। এটা বড় মাঠ, তবে উইকেট ভালো হওয়ার কথা।’ তার কথা ইঙ্গিত রয়েছে– পরিচিত কৌশলেই সামান্য পরিবর্তন আনা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হু হু করে নেমেছে

পাকিস্তানের ‘ট্রাম্প কার্ড’ মোকাবিলায় যে ‘প্ল্যান’ সাজাচ্ছে ভারত

প্রকাশিত: ১১:৪৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ (রোববার) ভারত-পাকিস্তানের মহারণ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে নামার আগে উভয় দলই সেখানে অনুশীলন করেছে। পাকিস্তান যেমন স্পিন আক্রমণে শাণ দিয়েছে, তেমনি ভারতের অনুশীলনেও অদ্ভুত দৃশ্যের দেখা মেলে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দৌড়ে এসে বল করার মাঝপথে হঠাৎ থেমে যাচ্ছেন– একটু বিরতি দিয়ে তারপর বল ছাড়ছেন। একই কাজ করলেন ওয়াশিংটন সুন্দরও।

হঠাৎ কেন এই কৌশল তা হয়তো বিশ্বকাপে চোখ রাখা সমর্থকরা ইতেমধ্যেই জানেন। এমন বোলিং অ্যাকশনের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনায় আছেন পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক। তার রানআপ থামিয়ে লাসিথ মালিঙ্গার মতো একপাশ থেকে বল ছাড়ার ধরন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিও হাজির করছেন কেউ কেউ। এমন ব্যতিক্রমী বোলিং অ্যাকশন মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত। উসমান তারিককে পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আগা ‘ট্রাম্প-কার্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন, অন্যদিকে যেকোনো আক্রমণ সামলাতে ভারত পরিকল্পনা সাজিয়েছে।

তারিকের প্রসঙ্গ তোলার পর সালমান জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে প্রতিটি খেলোয়াড়ই গুরুত্বপূর্ণ। উসমান অবশ্যই টি-টোয়েন্টি লিগগুলোয় অসাধারণ বোলিং করে আসছে এবং তিনি আমাদের ট্রাম্প কার্ড। তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে যত কথাই হোক না কেন, এটি আমাদের দৃষ্টিতে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না। ইতোমধ্যে দু’বার তার অ্যাকশন বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। আমি জানি না মানুষ কেন অনবরত এটি নিয়ে প্রশ্ন করছে। তার বিষয়ে যতটুকু জানি, তিনিও (তারিক) এ নিয়ে অতটা ভাবেন না।’

এদিকে, ভারতের ব্যাটাররা বারবার তারিকের অনুকরণে সূর্য-সুন্দরদের করা থেমে-থেমে আসা ডেলিভারির মুখোমুখি হয়েছেন। চোখ ও মন প্রস্তুত করলেন এক ভিন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য, লক্ষ্যটা সহজ– উসমান তারিকের সেই অনন্য ‘পজ-অ্যান্ড-রিলিজ’ বোলিং অ্যাকশন সামলাতে যাতে অসুবিধা না হয়। পরবর্তীতে সূর্যকুমারও বলেছেন, ‘কখনও কখনও পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন আসে। সেই প্রশ্ন ফেলে রাখা যায় না। আমাদের নিজেদের মতো করে কিছু চেষ্টা করতে হবে। সে যখন বল করতে আসে, সে আলাদা চরিত্রের, কিন্তু আমরা তার সামনে আত্মসমর্পণ করতে পারি না।’

প্রেমাদাসার উইকেট ধীরগতির এবং স্পিনারদের সহায়তা দেয়। যে কারণে ভারত কিছুটা অস্বস্তিতে। ফলে টি-টোয়েন্টির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা এখন সচেতনভাবে পা বাড়াতে চায়। পাকিস্তান দলে স্পিন অপশন ব্যাপক– তারিক ছাড়াও আবরার আহমেদ, সাইম আইয়ুব, শাদাব খান ও মোহাম্মদ নেওয়াজরা আছেন। আবার প্রেমাদাসার এক পাশের বাউন্ডারি ৮৪ গজ, অন্যটি ৭৪। উইকেটে ইতিমধ্যেই ক্ষয় হয়েছে, একই পিচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭০ রান তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটাররা হোঁচট খেয়েছেন। ফলে রান যে সহজে আসবে তা বলা যায়, ক্রিজে টিকে থেকে মানিয়ে নিতে হয়, এরপর সহজ হয়ে উঠতে পারে পাল্টা লড়াই।

ভারতের পেস এবং স্পিন বিভাগেও যথেষ্ট ভ্যারিয়েশন আছে। প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার জন্য তাদের সক্ষমতা আগেও দেখা গেছে বহুবার। তবে একাদশে কাকে খেলানো হবে সেটি স্পষ্ট করেননি অধিনায়ক সূর্যকুমার, ‘কোন পেসার খেলবে, কতজন পেসার আর কতজন স্পিনার– এই সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন। এটা বড় মাঠ, তবে উইকেট ভালো হওয়ার কথা।’ তার কথা ইঙ্গিত রয়েছে– পরিচিত কৌশলেই সামান্য পরিবর্তন আনা হতে পারে।