বাংলাদেশ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না: কর্মভিত্তিক পার্থক্য রয়েছে

জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যেকের কর্ম অনুযায়ী আলাদা। যারা অবিশ্বাস, কপটতা, আল্লাহর দ্বিনে বাধা বা মুমিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মতো ভয়াবহ অপরাধ করে, তাদের শাস্তি কঠোর হবে। পবিত্র কোরআন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, প্রতিটি ব্যক্তির কর্ম অনুযায়ী মর্যাদা ও শাস্তি নির্ধারিত হবে এবং আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করবেন না (সুরা আহকাফ, আয়াত ১৮-১৯)।

হাদিসেও এসেছে যে জাহান্নামিদের শাস্তি একই হবে না। কিছু লোকের আগুন গোড়ালি পর্যন্ত, কেউ কোমর পর্যন্ত, আবার কেউ গলা পর্যন্ত ভোগ করবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭০৬১)। নুমান ইবনু বাশির (রা.) বর্ণনায়, যাদের সবচেয়ে হালকা আজাব, তাদের দুই পায়ের তলায় প্রজ্জ্বলিত অঙ্গার রাখা হবে, যা মগজ পর্যন্ত তীব্র তাপ পৌঁছে দেবে (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৫৬২)।

যদিও কফেররা দুনিয়ায় কিছু সৎকর্ম করতে পারে, যেমন আত্মীয়-সম্পর্ক বজায় রাখা, দরিদ্রদের সাহায্য বা অসুস্থদের চিকিৎসা করা, কিন্তু আখেরাতে তারা তার সুফল পাবে না। আল্লাহ বলেছেন, যারা কুফরি করেছে, তাদের কাছে জমিন ভরা স্বর্ণ দিতে চাইলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না; তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আজাব এবং কোনো সাহায্যকারী থাকবে না (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৯১)।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, কেউ ঈমান অমান্য করলে তার সৎকর্ম নিষ্ফল হবে এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে (সুরা মায়েদা, আয়াত ৫)। মুশরিকদের সৎকর্মও যদি তাদের কুফরের বিরুদ্ধে হয়, তা মূল্যহীন হবে এবং তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে (সুরা তাওবা, আয়াত ১৭)।

আল্লাহ আরও বলেন, যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের আমল বাতাসে উড়ে যাওয়া ছাইয়ের মতো, যা থেকে তারা কোনো লাভ পাবে না (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত ১৮)। বিপরীতে, একজন মুমিনের নেক আমলকে আল্লাহ দুনিয়াতে ও আখেরাতে পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু কাফেররা দুনিয়াতেই স্বল্প প্রতিদান পায়, আখেরাতে কোনো সুফল তাদের জন্য থাকে না (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৯৮২)।

এভাবে বোঝা যায়, জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না; এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির কর্মের প্রকৃতি ও পরিমাণের উপর নির্ভরশীল।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না: কর্মভিত্তিক পার্থক্য রয়েছে

প্রকাশিত: ০৪:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যেকের কর্ম অনুযায়ী আলাদা। যারা অবিশ্বাস, কপটতা, আল্লাহর দ্বিনে বাধা বা মুমিনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মতো ভয়াবহ অপরাধ করে, তাদের শাস্তি কঠোর হবে। পবিত্র কোরআন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, প্রতিটি ব্যক্তির কর্ম অনুযায়ী মর্যাদা ও শাস্তি নির্ধারিত হবে এবং আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুম করবেন না (সুরা আহকাফ, আয়াত ১৮-১৯)।

হাদিসেও এসেছে যে জাহান্নামিদের শাস্তি একই হবে না। কিছু লোকের আগুন গোড়ালি পর্যন্ত, কেউ কোমর পর্যন্ত, আবার কেউ গলা পর্যন্ত ভোগ করবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭০৬১)। নুমান ইবনু বাশির (রা.) বর্ণনায়, যাদের সবচেয়ে হালকা আজাব, তাদের দুই পায়ের তলায় প্রজ্জ্বলিত অঙ্গার রাখা হবে, যা মগজ পর্যন্ত তীব্র তাপ পৌঁছে দেবে (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৫৬২)।

যদিও কফেররা দুনিয়ায় কিছু সৎকর্ম করতে পারে, যেমন আত্মীয়-সম্পর্ক বজায় রাখা, দরিদ্রদের সাহায্য বা অসুস্থদের চিকিৎসা করা, কিন্তু আখেরাতে তারা তার সুফল পাবে না। আল্লাহ বলেছেন, যারা কুফরি করেছে, তাদের কাছে জমিন ভরা স্বর্ণ দিতে চাইলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না; তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক আজাব এবং কোনো সাহায্যকারী থাকবে না (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৯১)।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, কেউ ঈমান অমান্য করলে তার সৎকর্ম নিষ্ফল হবে এবং সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে (সুরা মায়েদা, আয়াত ৫)। মুশরিকদের সৎকর্মও যদি তাদের কুফরের বিরুদ্ধে হয়, তা মূল্যহীন হবে এবং তারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে (সুরা তাওবা, আয়াত ১৭)।

আল্লাহ আরও বলেন, যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের আমল বাতাসে উড়ে যাওয়া ছাইয়ের মতো, যা থেকে তারা কোনো লাভ পাবে না (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত ১৮)। বিপরীতে, একজন মুমিনের নেক আমলকে আল্লাহ দুনিয়াতে ও আখেরাতে পুরস্কৃত করবেন। কিন্তু কাফেররা দুনিয়াতেই স্বল্প প্রতিদান পায়, আখেরাতে কোনো সুফল তাদের জন্য থাকে না (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৬৯৮২)।

এভাবে বোঝা যায়, জাহান্নামে সবার শাস্তি সমান হবে না; এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির কর্মের প্রকৃতি ও পরিমাণের উপর নির্ভরশীল।

kalprakash.com/SS