বাংলাদেশ ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ডোমিনিকান রিপাবলিকে মুসলমানদের অতীত ও বর্তমান

ক্যারিবিয়ান সাগর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা দেশ ডোমিনিকান রিপাবলিক। পাহাড়, বনভূমি, নদী ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটন, খনি ও শিল্প খাত দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গো দেশের বৃহত্তম শহর। প্রায় এক কোটির বেশি জনসংখ্যার এ দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘু একটি সম্প্রদায়।

ডোমিনিকান রিপাবলিকে ইসলামের আগমন ঘটে ঔপনিবেশিক আমলে। ১৪৯২ সালে স্পেন ক্যারিবিয়ান অঞ্চল দখলের পর পশ্চিম আফ্রিকা থেকে মুসলিম দাস আনা শুরু করে। উলুফ জাতিগোষ্ঠীর এসব মুসলিম দাস এবং স্পেন থেকে নির্বাসিত মুসলমানদের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে ইসলামের প্রথম পরিচয় ঘটে।

তবে শুরু থেকেই মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চলতে থাকে। খ্রিস্টান মিশনারিরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করে এবং মুসলিম দাসদের বিরুদ্ধে বৈরী মনোভাব দেখায়। ১৫০৩ সালে মুসলিম দাসদের প্রতিরোধ এবং ১৫২২ সালের বড় বিদ্রোহের পর তাদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বাড়ে। পরবর্তীতে মুসলিম দাস আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ফলে এক সময় এ অঞ্চল প্রায় মুসলিমশূন্য হয়ে পড়ে।

উনিশ শতকে লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মুসলিম পরিবার আসার মাধ্যমে মুসলিম উপস্থিতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। তবে অনেকেই তাদের ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখতে পারেননি। বিশ শতকে ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আগমনের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায় আবার গড়ে উঠতে শুরু করে।

বর্তমানে দেশটিতে মুসলমানদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও কয়েক হাজারের বেশি নয় বলে ধারণা করা হয়। মুসলিম সার্কেল অব ডোমিনিকান রিপাবলিক (সিআইডিআর) তাদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গোতে আন-নুর মসজিদসহ কয়েকটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তবে মুসলিম সম্প্রদায়টি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে দ্বিনি শিক্ষার অভাব, দক্ষ আলেমের সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। ফলে নতুন প্রজন্মের ধর্মীয় চর্চা ও পরিচয় রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

তবুও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ডোমিনিকান রিপাবলিকে মুসলমানরা ধীরে ধীরে একটি সংগঠিত ও ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

ডোমিনিকান রিপাবলিকে মুসলমানদের অতীত ও বর্তমান

প্রকাশিত: ০৫:২২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ক্যারিবিয়ান সাগর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা দেশ ডোমিনিকান রিপাবলিক। পাহাড়, বনভূমি, নদী ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটন, খনি ও শিল্প খাত দেশটির অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি। রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গো দেশের বৃহত্তম শহর। প্রায় এক কোটির বেশি জনসংখ্যার এ দেশে মুসলমানরা সংখ্যালঘু একটি সম্প্রদায়।

ডোমিনিকান রিপাবলিকে ইসলামের আগমন ঘটে ঔপনিবেশিক আমলে। ১৪৯২ সালে স্পেন ক্যারিবিয়ান অঞ্চল দখলের পর পশ্চিম আফ্রিকা থেকে মুসলিম দাস আনা শুরু করে। উলুফ জাতিগোষ্ঠীর এসব মুসলিম দাস এবং স্পেন থেকে নির্বাসিত মুসলমানদের মাধ্যমেই এ অঞ্চলে ইসলামের প্রথম পরিচয় ঘটে।

তবে শুরু থেকেই মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চলতে থাকে। খ্রিস্টান মিশনারিরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করে এবং মুসলিম দাসদের বিরুদ্ধে বৈরী মনোভাব দেখায়। ১৫০৩ সালে মুসলিম দাসদের প্রতিরোধ এবং ১৫২২ সালের বড় বিদ্রোহের পর তাদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বাড়ে। পরবর্তীতে মুসলিম দাস আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ফলে এক সময় এ অঞ্চল প্রায় মুসলিমশূন্য হয়ে পড়ে।

উনিশ শতকে লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মুসলিম পরিবার আসার মাধ্যমে মুসলিম উপস্থিতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়। তবে অনেকেই তাদের ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখতে পারেননি। বিশ শতকে ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আগমনের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায় আবার গড়ে উঠতে শুরু করে।

বর্তমানে দেশটিতে মুসলমানদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও কয়েক হাজারের বেশি নয় বলে ধারণা করা হয়। মুসলিম সার্কেল অব ডোমিনিকান রিপাবলিক (সিআইডিআর) তাদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গোতে আন-নুর মসজিদসহ কয়েকটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তবে মুসলিম সম্প্রদায়টি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষ করে দ্বিনি শিক্ষার অভাব, দক্ষ আলেমের সংকট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। ফলে নতুন প্রজন্মের ধর্মীয় চর্চা ও পরিচয় রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

তবুও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ডোমিনিকান রিপাবলিকে মুসলমানরা ধীরে ধীরে একটি সংগঠিত ও ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

kalprakash.com/SS