কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ১৯৭৫ সালের গণ–অভ্যুত্থান ছিল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারের জন্য। তিনি সতর্ক করেছেন, যদি ক্ষমতাসীনরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার আত্মসন্তুষ্টিতে ভুগে সংস্কার থেকে পিছিয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে চব্বিশের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতি, বাস্তবতা ও ভবিষ্যত’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে হাসনাত বলেন, আগের সিস্টেম অক্ষুণ্ণ থাকলে যে কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে হাসিনা হিসেবে ক্ষমতায় আসতে পারে। তিনি আরও বলেন, হাসিনা কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং বহু ফ্যাসিবাদী আইডিয়ার সমষ্টি।
সংলাপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবারের কষ্টের বিষয়ও তুলে ধরেন এবং বলেন, মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে কাউকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া বা নিখোঁজ করার ঘটনা হবে না।
মানবাধিকার কমিশনকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, কমিশনের অধ্যাদেশ যথাযথভাবে কার্যকর না হলে ২০০৯ সালের আইন অনুযায়ী তদন্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
সংলাপের আয়োজন করেছে ভয়েস ফর রিফর্ম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























