নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার শতকরা হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৫ সালের পে স্কেলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হতো, যা নতুন স্কেলে কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে ঢাকার বাইরের অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও বাড়িভাড়া ভাতার হার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।
তবে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়িভাড়া ভাতার শতকরা হার কমলেও সামগ্রিকভাবে টাকার অঙ্কে প্রাপ্য ভাতার পরিমাণ বাড়বে। গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘জাতীয় বেতন কাঠামো ২০২৬’ এবং সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার আনুষ্ঠানিক কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ঢাকা সিটি করপোরেশন ব্যতীত অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলার আওতাধীন এলাকায় বাড়িভাড়া ভাতার হার বিদ্যমান ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য গ্রামীণ এলাকায় কর্মরতদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে তা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ করার সুপারিশ রয়েছে।
এদিকে নতুন পে স্কেলে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হারেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় গ্রেড যত ওপরের দিকে যাবে, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির শতকরা হার তুলনামূলকভাবে কম হবে। তবে প্রচলিত ২০টি গ্রেডের কাঠামো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশন প্রথম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করলেও সচিব কমিটির সুপারিশে তা কিছুটা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ৮ম ও ৯ম গ্রেডে কমিশনের সুপারিশকৃত ১০৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবটি পরিবর্তন করে ১০০ শতাংশ করা হয়েছে।
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। তবে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে।
নতুন কাঠামোয় চিকিৎসা ভাতাও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হচ্ছে। ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সী চাকুরিজীবীরা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর বয়সীরা ৪ হাজার টাকা করে চিকিৎসা ভাতা পাবেন। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত পেনশনারদের ক্ষেত্রে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের মাসে ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত ‘মোবাইল ভাতা’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় ১ম থেকে ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা হারে ভাতা পাবেন। সেই সঙ্গে যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাও বাড়ানো হচ্ছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতার হার বিদ্যমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
kalprakash.com/IM